World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিল দলে ডিফেন্ডারের বদলে কেন মিডফিল্ডার নিলেন আনচেলত্তি?

ব্রাজিল দলে ডিফেন্ডারের বদলে কেন মিডফিল্ডার নিলেন আনচেলত্তি?

বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ব্রাজিল। মিসরের বিপক্ষে সেই ম্যাচে চোট পেয়ে ওয়েসলির প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। কিন্তু কোচ কার্লো আনচেলত্তি চমক দেখিয়ে এই রাইট ব্যাকের বদলে একজন মিডফিল্ডারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিষয়টা বিস্ময়কর হলেও ডিফেন্ডারের জায়গায় একজন মিডফিল্ডারকে দলে নেওয়ার পেছনে তার কৌশলগত ও দলগত কিছু কারণ রয়েছে। 

দুই নম্বর জার্সিধারীর অনুপস্থিতিতে তার জায়গা নেবেন দানিলো কিংবা ইবানেজ, যারা ওয়েসলির মতো বাইলাইনে যান না, আবার পেনাল্টি এরিয়ার আশেপাশেও থাকেন না। কাকতালীয়ভাবে, দুজনেই তাদের নিজ নিজ ক্লাবে সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলেন। ফুল ব্যাক হিসেবে ইবানেজ তার দলের রক্ষণের নিরাপত্তা জোরদার করে থাকেন এবং খেলা গড়ে দিতে সাহায্য করেন। কিন্তু সামনের দিকে খুব কমই আগাতে দেখা যায় তাকে। ইতোমধ্যে মার্চে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে এই ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে।

ব্রাজিল বল দখলে রাখতে পারলে দানিলো তিন জনের রক্ষণ গড়তে প্রায় সময় পেছনে নেমে আসেন। তবে কয়েক বছর ধরে ফুলব্যাক হিসেবে খেলায় আল আহলি ডিফেন্ডারের চেয়ে একটু বেশিই এগিয়ে খেলেন তিনি। ওয়েসলির বদলে এই দুজনের যে কোনো একজনকে রাইট ব্যাকের ভূমিকা পালন করতে হবে।

আর এ কারণেই একজন রাইট ব্যাককে নতুন করে ডাকার প্রয়োজন বোধ করেননি আনচেলত্তি। তাছাড়া মার্কিনহোস বা গ্যাব্রিয়েল মাগালেসের মতো সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা আছেন, যারা প্রয়োজনে অনায়াসে ডানপ্রান্তে সরে গিয়ে রাইট ব্যাকের দায়িত্ব সামলাতে পারেন। এমনকি দল চাইলে থ্রি-ম্যান ডিফেন্স নিয়েও মাঠে নামতে পারে।

ব্রাজিলের স্কোয়াডে ডিফেন্স লাইনে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থাকার কারণে এই পজিশনে ব্যাক-আপ বা বিকল্প খেলোয়াড় পর্যাপ্ত ছিল। তাই একজন বাড়তি ডিফেন্ডার নেওয়ার চেয়ে মাঝমাঠের শক্তি বাড়ানোকে বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন কোচ।

তাছাড়া আতালান্তার হয়ে খেলা ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এডারসন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তিনি মাঠের মাঝখানে ট্যাকল করা ও একই সাথে আক্রমণে ভূমিকা রাখতে বেশ পারদর্শী। তার এই বহুমুখী খেলার ধরন আনচেলত্তির ফুটবল কৌশলের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায়। নকআউট বা বড় টুর্নামেন্টে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও অত্যন্ত জরুরি। এডারসন আসায় ব্রাজিলের মাঝমাঠ রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক উভয় দিক থেকেই আরও শক্তিশালী ও গোছানো হলো। বলা চলে, ওয়েসলিকে হারিয়ে শাপে বর হলো ব্রাজিলের।

এফএইচএম