World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপে মহাকাব্যিক কিছু করে দেখাতে চায় ইরান

বিশ্বকাপে মহাকাব্যিক কিছু করে দেখাতে চায় ইরান

আয়োজক তিন দেশের বাইরে তৃতীয় দল হিসেবে সবার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ইরান। কিন্তু এই বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা বিশ্বমঞ্চে অংশ নিতে পৌঁছে গেছে তাদের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সব ম্যাচ থাকলেও ভিসা প্রক্রিয়াকরণ জটিলতায় আরেক সহআয়োজক দেশে ক্যাম্প গড়েছে তারা। এখন পুরোপুরি মনোযোগ খেলায়।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সপ্তমবার এই প্রতিযোগিতায় খেলবে ইরান। তাদের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছানো। তিনবারের মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন ইরান এশিয়ান ফুটবলের আভিজাত্য হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তারা এখনও সেই আঞ্চলিক সাফল্য বৈশ্বিক মঞ্চে পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত তাদের ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের কোনোটিতেই তারা গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি।

তবে এবার পরিস্থিতি পরিবর্তনের আশা। উত্তর আমেরিকার এই আসরের জন্য দারুণভাবে যোগ্যতা অর্জন করা এবং একঝাঁক প্রতিষ্ঠিত প্রতিভাবান খেলোয়াড় সমৃদ্ধ টিম মেলি এবার নকআউট পর্বে পৌঁছে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মতো অবস্থানে রয়েছে।

গালেনোই বলেছেন, ‘সম্প্রতি আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে ছিলাম, কিন্তু খেলোয়াড়রা তাদের সেরা চেষ্টা করেছিল এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছিল। তারা অনেক (বাছাইপর্ব) পরিশ্রম করেছিল। বিশ্বকাপে তারা মহাকাব্যিক কিছু করতে পারে। তারা সেটা করতে পারবে, এই বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখার মতো টেকনিক্যাল সামর্থ্য তাদের আছে।’

ইরানের কোচ: আমির গালেনোই

টিম মেলির প্রধান হিসেবে এটি গালেনোইর দ্বিতীয় মেয়াদ। অত্যন্ত অভিজ্ঞ কোচ তার দেশের অন্যতম সম্মানিত কৌশলবিদ। খেলোয়াড়ি জীবনে ঘরোয়া ক্লাব এস্তেঘলাল এবং জাতীয় দলের মিডফিল্ড সামলানোর সময় তিনি ‘দ্য জেনারেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তেহরানে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ৯০-এর দশকের শেষের দিকে অবসরের পর দ্রুতই কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে জাতীয় দলে ফেরার পর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে গালেনোই ইরানকে এএফসি এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালে নিয়ে যান। এরপর একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু হয়, যেখানে ইরান ১৬টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরে টানা চতুর্থবারের মতো বৈশ্বিক আসরে জায়গা করে নেয়। তাদের একমাত্র হার ছিল কাতারের কাছে, তাও বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলার পর।

বিশ্বকাপে ইরানের সূচি

১৫ জুন: ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড - লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম

২১ জুন: বেলজিয়াম বনাম ইরান - লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম

২৬ জুন: মিসর বনাম ইরান - সিয়াটেল স্টেডিয়াম

ইরানের বিশ্বকাপের ইতিহাস

কনফেডারেশন: এএফসি

সেরা বিশ্বকাপ: গ্রুপ পর্ব (১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২)

সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (গ্রুপ পর্ব)

প্রথম বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা ১৯৭৮

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৭ বার

টানা অংশগ্রহণের ধারা: চারবার

সামগ্রিক বিশ্বকাপের রেকর্ড: ম্যাচ-১৮, জয়-৩, ড্র-৪, হার-১১, গোল দিয়েছে-১৩, গোল খেয়েছে-৩১

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ২১তম।

ইরানের শেষ বিশ্বকাপ

ওয়েলসের বিপক্ষে এক বিখ্যাত জয় সত্ত্বেও ইরানের নকআউটে খেলার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেনি এবং কাতার ২০২২-এ তারা আবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়। চার বছর আগে পর্তুগাল ম্যাচের শুরুর একাদশের ১০ জনই এই স্কোয়াডে ছিলেন এবং কার্লোস কুইরোজ আবারও কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ইংল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া দলটিকে দেখে মনে হয়েছিল তারা হয়তো তাদের চক্রের শেষের দিকে পৌঁছেছে। তবে ওয়েলসের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনলেও, শেষ ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলের হার তাদের আরও একবার আগেভাগে বিদায় নিশ্চিত করে।

ইরানের প্রথম বিশ্বকাপ 

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ইরান একটি কঠিন পথ পেরিয়ে আর্জেন্টিনা ১৯৭৮-এ এশিয়া ও ওশেনিয়ার জন্য সংরক্ষিত একমাত্র স্থানটি দখল করে। নেদারল্যান্ডস ও পেরুর কাছে বড় হারের মাধ্যমে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের সেই ধারা শুরু হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তারা ১-১ ড্র করে। সেই ম্যাচে প্রয়াত ইরাজ দানাইফার্দ ইরানের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলদাতার রেকর্ড গড়েন।

ইরানের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা 

মাত্র ১১ জন ইরানি বিশ্বকাপে গোল করেছেন এবং তাদের মধ্যে একমাত্র মেহেদি তারেমি একাধিকবার গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচে তিনি জোড়া গোল করেন।

ইরানের সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়

ইরানের হয়ে তিনটি আলাদা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তিন খেলোয়াড়ের একজন হলেন এহসান হাজসাফি। তিনি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের প্রতিটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শুরু থেকে খেলেছেন, যা তাকে ইরানের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের অধিকারী করেছে।

ইরানের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ জয়

ইরান বিশ্বকাপে মাত্র তিনবার জয় পেয়েছে। প্রথমটি ছিল ১৯৯৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় ২-১ ব্যবধানের জয়, এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারানো। তবে কাতার ২০২২-এ ওয়েলসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়টি এখন পর্যন্ত তাদের সেরা ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ম্যাচে ইনজুরি টাইমের আট ও এগারো মিনিটে রুজবেহ চেশমি এবং রামিন রেজাইয়ান গোল করে ঐতিহাসিক এই জয় নিশ্চিত করেছিলেন।

ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক- আলিরেজা বেইরানভান্দ, হোসেইন হোসেইনি, পায়াম নিয়াজমান্দ

ডিফেন্ডার- দানিয়াল ইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হার্দানি, হোসেইন কানানি, শুজা খলিলজাদে, মিলাদ মোহাম্মাদি, আলি নেমাতি, রামিন রেজায়িয়ান

মিডফিল্ডার- রৌজবেহ চেশমি, সাঈদ এজাতোলাহি, মেহদি ঘাইদি, সামান ঘোদ্দোস, মোহাম্মদ ঘোরবানী, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবি, আমির মোহাম্মদ রাজাঘিনিয়া, মেহদি তারেমি, আরিয়া ইউসেফি

ফরোয়ার্ড- আলি আলিপুর, ডেনিস দারঘাহি, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদে, শাহরিয়ার মোগানলু, মেহদি তারেমি

এফএইচএম