২০০২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপে অভিষেকে সাড়া ফেলে দিয়েছিল সেনেগাল। আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে চমকের শুরু। তারপর গ্রুপ পর্ব ও শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আফ্রিকান জায়ান্টরা। গোল্ডেন গোলে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার ১৬ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফেরে তারা। লায়ন্স অব তেরাঙ্গা তারপর থেকে নিয়মিত খেলছে বিশ্বকাপে। এবার তারা টানা তৃতীয়বার অংশ নিতে যাচ্ছে।
পশ্চিম আফ্রিকান এই দেশটি আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে মাঠে নামবে। অভিষেক আসরের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করে তারা চাইবে প্রথম ৪৮ দলের এই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে।
সেনেগাল কোচ: পাপে থিয়াউ
২০০২ সালের সেই কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের উদ্যম ফিরিয়ে আনতে পাপে থিয়াউয়ের মতো অনুপ্রেরণা সেনেগালের জন্য আর কেউ হতে পারে না। তিনি নিজে সেই কিংবদন্তিতুল্য যাত্রার অংশ ছিলেন এবং সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে অঁরি কামারার জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনিই।

থিয়াউ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্থায়ীভাবে প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার অধীনে সেনেগাল তাদের অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রেখেছে এবং ২০২৫ সালের জুনে একটি প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর মতো বড় সাফল্য অর্জন করেছে। আর ডিসেম্বরে আফকনের বিতর্কিত ফাইনাল জয় তো আছেই।
সেনেগালের বিশ্বকাপ সূচি
১৬ জুন: ফ্রান্স বনাম সেনেগাল – নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম
২২ জুন: নরওয়ে বনাম সেনেগাল – নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম
২৬ জুন: সেনেগাল বনাম ইরাক – টরন্টো স্টেডিয়াম
সেনেগালের বিশ্বকাপের ইতিহাস
কনফেডারেশন: সিএএফ
সেরা বিশ্বকাপ: কোয়ার্টার ফাইনাল (২০০২)
শেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (শেষ ষোলো)
প্রথম বিশ্বকাপ: কোরিয়া/জাপান ২০০২
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৪ বার (২০০২, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)
টানা কোয়ালিফিকেশন: ৩ বার
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ ১২, জয় ৫, ড্র ৩, হার ৪, গোল করেছে ১৬, গোল খেয়েছে ১৭
ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৪তম

সেনেগালের প্রথম বিশ্বকাপ
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম আবির্ভাবেই সেনেগাল তৎকালীন বিশ্ব ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে এক বিশাল অঘটন ঘটিয়েছিল। গোলটি করেছিলেন পাপা বুব্বা দিওপ। এরপর ডেনমার্কের সঙ্গে ড্র ও উরুগুয়ের সঙ্গে ৩-৩ ড্র করে তারা নকআউট পর্বে পৌঁছায়। রাউন্ড অফ ১৬-তে তারা সুইডেনকে পরাজিত করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে তাদের রূপকথার মতো যাত্রাটি শেষ হয়।
সেনেগালের শেষ বিশ্বকাপ
২০২২ সালের আফ্রিকান নেশনস কাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেনেগাল কাতারে গিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে শুরু হলেও কাতার ও ইকুয়েডরকে হারিয়ে তারা শেষ ১৬-তে পৌঁছায়। তবে নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়।
সেনেগালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা
বিশ্বকাপে সেনেগালের করা মোট ১৬টি গোল এসেছে ১২ জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের পা থেকে। মাত্র দুইজন খেলোয়াড় একাধিক গোল করেছেন। অঁরি কামারার চেয়ে এক গোল এগিয়ে শীর্ষে আছেন প্রয়াত পাপা বুব্বা দিওপ, যার তিনটি গোলই এসেছিল ২০০২ বিশ্বকাপে।

সেনেগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
তিনজন খেলোয়াড় যৌথভাবে সেনেগালের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন: কালিডু কুলিবালি, ইউসুফ সাবালি ও ইসমাইলা সার। তারা প্রত্যেকে বিশ্বকাপে ৭টি করে ম্যাচ খেলেছেন। এদের মধ্যে অধিনায়ক কুলিবালি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এই সাতটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট মাঠে ছিলেন।
সেনেগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার- মোরি দিয়াও, ইয়েভান ডিওফ, এদোয়ার্দ মেন্ডি
ডিফেন্ডার- ইলাই কামারা, ক্রেপিন দিয়াত্তা, এল হাদজি মালিক দিয়ুফ, ইসমাইল জাকবস, কালিদু কুলিবালি, মুস্তাফা এমবো, আন্তোয়ান মেন্ডি, মুসা নিয়াখাতে, মামাদু সার, আবদুলাই সেক
মিডফিল্ডার- লামিন কামারা, পাথে সিস, হাবিব দিয়ারা, ইদ্রিসা গানা গেই, পাপে গেই, পাপে মাতার সার, বারা সাপোকো নিয়ায়ে
ফরোয়ার্ড-আসানে দিয়াও, বাম্বা দিয়েং, নিকোলাস জ্যাকসন, সাদিও মানে, ইব্রাহিম মবায়ে, শেরিফ নিয়ায়ে, ইলিমান নিয়ায়ে, ইসমাইলা সার।
এফএইচএম

