World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

তারকায় ঠাসা পর্তুগালের ‘অধরা ট্রফি’ হাতে নেওয়ার মিশন

তারকায় ঠাসা পর্তুগালের ‘অধরা ট্রফি’ হাতে নেওয়ার মিশন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগাল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে মাঠে নামছে, যাদের বড় টুর্নামেন্টের প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং প্রতিটি পজিশনেই সুপরিচিত নাম রয়েছে। শক্তিশালী রক্ষণভাগ দ্বারা সুরক্ষিত এই দলে রয়েছে গতিশীল ও সৃজনশীল মিডফিল্ড এবং এমন একটি আক্রমণভাগ যা শারীরিক শক্তি ও অসাধারণ কৌশলী দক্ষতার মিশেলে গড়া।

পর্তুগিজরা একটি শক্তিশালী টুর্নামেন্ট ঐতিহ্য তৈরি করেছে। তারা তাদের অভিষেকেই তৃতীয় হয়েছিল এবং মেধার এমন এক ধারা তৈরি করেছে যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রাও প্রতি বছর বিশ্বের বড় বড় ক্লাবগুলোতে নিজেদের ছাপ রেখে চলেছেন।

স্পটলাইটে থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে চলেছেন, প্রতিপক্ষের সেরা রক্ষণভাগকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন এবং ‘সেলেসাও দাস কিনাস’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রথমবারের মতো কাঙ্ক্ষিত মুকুট জেতার সবটুকু যোগ্যতা রয়েছে এই দলের।

যারা দলগত খেলার চেয়ে ব্যক্তি-তারকাখ্যাতি নিয়ে বেশি মগ্ন, তারা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে রোনালদো বনাম লিওনেল মেসির মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখে রোমাঞ্চিত হতে পারেন—তবে শর্ত হলো, উভয় দলকেই নিজ নিজ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই ধাপে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু এই টুর্নামেন্টেও পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকাকে কীভাবে সামলানো হচ্ছে, সেটাই দলের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

কোচ রবার্তো মার্তিনেজ যদি রোনালদোকে দলের জয়ের ধারার সাথে মানিয়ে নিয়ে এমনভাবে ব্যবহার করতে পারেন যাতে মাঠের বাইরে কোনো ক্ষোভ বা নাটুকে পরিস্থিতির তৈরি না হয়, তবে প্রতিভায় ঠাসা এই পর্তুগাল দলের শেষ ধাপ পর্যন্ত না পৌঁছানোর কোনো কারণ নেই। কিন্তু মার্তিনেজ যদি জোর করে রোনালদোকে খেলিয়েই যাওয়ার জেদ ধরে রাখেন, তবে পর্তুগাল যে টুর্নামেন্ট থেকে খুব বাজেভাবে বিদায় নেবে—তা সহজেই অনুমান করা যায়।

প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে এই মরসুমে গনসালো রামোস হয়তো খুব বেশি খেলার সুযোগ পাননি, তাও ব্যক্তিত্ব বা খ্যাতির হিসাব পাশে সরিয়ে রাখলে দলের আক্রমণভাগের জন্য তিনিই বেশি মানানসই। খুব কম দলেরই এমন দুর্দান্ত মিডফিল্ড বা মধ্যমাঠ রয়েছে, পাশাপাশি তাদের রক্ষণভাগও বেশ শক্তিশালী।

পর্তুগালের কোচ: রবার্তো মার্তিনেজ

স্প্যানিশ এই কোচ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেলজিয়ামের প্রধান কোচ হিসেবে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। তার কৌশল মেনে বল ধরে রাখার পাশাপাশি দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সমন্বয় ঘটিয়ে বেলজিয়াম চমকে দিয়েছিল। বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্ম’ সেরাটা নিংড়ে দিয়েছিল। বর্তমানেও তার হাতে ব্যক্তিগত প্রতিভার অভাব নেই এবং মার্তিনেজ ২০২৫ সালে পর্তুগালকে উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা এনে দিয়ে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার প্রথম ট্রফি জিতেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের সূচি

১৭ জুন: পর্তুগাল বনাম কঙ্গো ডিআর – হিউস্টন স্টেডিয়াম

২৩ জুন: পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান – হিউস্টন স্টেডিয়াম

২৭ জুন: কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল – মায়ামি স্টেডিয়াম

পর্তুগালের বিশ্বকাপের ইতিহাস

কনফেডারেশন: উয়েফা

সেরা বিশ্বকাপ: তৃতীয় স্থান (১৯৬৬)

গত বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (কোয়ার্টার ফাইনাল)

প্রথম বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ১৯৬৬ (তৃতীয় স্থান)

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৯ বার (১৯৬৬, ১৯৮৬, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)

টানা অংশগ্রহণের ধারা: ৭ বার (২০০২ থেকে)

সামগ্রিক রেকর্ড: খেলা- ৩৫, জয়- ১৭, ড্র- ৬, হার- ১২, গোল দিয়েছে- ৬১, গোল খেয়েছে- ৪১।

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ৫

পর্তুগালের প্রথম বিশ্বকাপ

পর্তুগাল ১৯৬৬ সালে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলে। ইংলিশদের মাটিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, এখন পর্যন্ত যা তাদের সেরা টুর্নামেন্ট পারফরম্যান্স। ইউসেবিও ও মারিও কলুনার মতো কিংবদন্তিদের নেতৃত্বে দলটি তাদের লড়াকু ফুটবল এবং ব্যক্তিগত প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল।

পর্তুগালের শেষ বিশ্বকাপ

কাতারে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল পর্তুগাল। ফার্নান্দো সান্তোসের দল কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েও ৫ গোলের থ্রিলারে ঘানাকে হারায়, তারপর ব্রুনো ফার্নান্দেসের জোড়া গোলে ২-০ তে উরুগুয়ের বিপক্ষে জেতে। টানা দুই জয়ে নকআউট নিশ্চিত করার পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে কোরিয়া রিপাবলিকের কাছে ২-০ তে হারে।

তবে শেষ ষোলোর জন্য সেরাটা জমা রেখেছিল তারা। সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে। তবে মরক্কোর গোছানো রক্ষণভাগ ও দারুণ আক্রমণের কাছে পরাস্ত হয়ে বিদায় নেয় পর্তুগাল। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে মরক্কো।

বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

১৯৬৬ সালে ইউসেবিও তার শারীরিক শক্তি ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে ইংল্যান্ডের দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে তিনি ৯টি গোল করেন, যা তাকে ফিফা বিশ্বকাপের একটি আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে জায়গা করে দেয়।

সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়

চিরসবুজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দীর্ঘায়ু ও নিরলস প্রতিযোগিতার প্রতীক। দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের হয়ে সর্বাধিক ২২টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৬ আসরে তিনি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আরও একটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন।

পর্তুগালের সবচেয়ে বড় জয়

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে পর্তুগাল উত্তর কোরিয়াকে ৭-০ গোলে হারায়, যা তাদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়। কার্লোস কুইরোজের অধীনে সেই ম্যাচে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছিলেন।

পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলকিপার- দিয়োগো কোস্তা, হোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দো ভেলহো

ডিফেন্ডার- তোমাস আরাউজো, জোয়াও ক্যানসেলো, দিয়োগো দালোত, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেস, মাতেউস নুনেস, নেলসন সেমেদো, রেনাতো ভেইগা

মিডফিল্ডার- স্যামুয়েল কোস্তা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, রুবেন নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া

ফরোয়ার্ড- ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স, গনসালো গেদেস, রাফায়েল লেও, পেদ্রো নেটো, গনসালো রামোস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও।

এফএইচএম