World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

ব্ল্যাক ডায়মন্ড লিওনিদাস: খালি পায়ে গোল ও জাদুকরী বাইসাইকেল কিক

ব্ল্যাক ডায়মন্ড লিওনিদাস: খালি পায়ে গোল ও জাদুকরী বাইসাইকেল কিক

তখনও ফুটবলের জাদুকর পেলে কিংবা ডিয়েগো ম্যারাডোনার জন্ম হয়নি। ঠিক সেই সময়ে বিশ্ব ফুটবলে পায়ের জাদুতে প্রথম বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এক ব্রাজিলীয় কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার। যার নাম লিওনিদাস ডা সিলভা। ফুটবল বিশ্ব তাকে চিনত ‘দ্য ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ (কালো হীরা) বা ‘রাবার ম্যান’ নামে।

আজ থেকে প্রায় ৮৮ বছর আগে, ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি এমন এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, যা আজও ফুটবল ইতিহাসে রূপকথার গল্পের মতোন হয়ে আছে।

১৯৩৮ সালের ৫ জুন। ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও পোল্যান্ড। ম্যাচটি শুধু গোলবন্যার জন্যই বিখ্যাত ছিল না (ব্রাজিল জিতেছিল ৬-৫ ব্যবধানে), বরং বিখ্যাত হয়েছিল লিওনিদাসের এক অদ্ভুত জেদ এবং পায়ের জাদুর জন্য।

ম্যাচ চলাকালীন সময়ে শুরু হয় প্রচণ্ড বৃষ্টি। মাঠের কাদা আর ভেজা মাটিতে বুট পরে দৌড়াতে পারছিলেন না লিওনিদাস। ভারী বুটের কারণে তার পায়ে অস্বস্তি হচ্ছিল। বিরক্তির একপর্যায়ে ফুটবল ইতিহাসের এই মহানায়ক মাঠের মধ্যেই নিজের বুট জোড়া খুলে ছুঁড়ে ফেলে দেন! রেফারিকে গিয়ে অনুরোধ করেন, তিনি খালি পায়েই খেলবেন।

আজকের আধুনিক ফুটবলে বুট ছাড়া মাঠে নামার কথা চিন্তাও করা যায় না। কিন্তু সেই সময়ে নিয়মকানুন এতটা কঠোর ছিল না। রেফারি প্রথমে খেয়াল না করলেও, লিওনিদাস খালি পায়েই কাদার মধ্যে বল নিয়ে কারিকুরি শুরু করেন এবং পোল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন!

তবে দুর্ভাগ্যবশত, রেফারি শেষ পর্যন্ত কড়া নিয়ম মেনে সেই খালি পায়ের গোলটি বাতিল করে দেন এবং তাকে বাধ্য করেন কাদা মাখা ভেজা বুট জোড়া আবারও পায়ে গলাতে। বুট পরার পর লিওনিদাস যেন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ব্রাজিলকে জেতান।

ফুটবলে ‘বাইসাইকেল কিক’ বা ‘ওভারহেড কিক’ শটটিকে যারা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, লিওনিদাস ছিলেন তাদের পথিকৃৎ। পোল্যান্ডের বিপক্ষেই তিনি মাঝআকাশে ভেসে শরীরটাকে শূন্যে ভাসিয়ে এক অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিক নিয়েছিলেন। গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার দর্শক এবং খোদ পোলিশ ডিফেন্ডাররা হাঁ করে তাকিয়ে দেখেছিলেন সেই দৃশ্য। পোল্যান্ডের গোলরক্ষক বুঝতেই পারেননি বলটি কোন দিক দিয়ে জালে জড়াল।

লিওনিদাস ডা সিলভা কেবল একজন ফুটবলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শিল্পী। ১৯৩৮ সালের সেই বিশ্বকাপে তিনি ৭ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। আজ এত বছর পরও যখনই ফুটবলে কোনো দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক দেখা যায়, কিংবা কোনো খেলোয়াড়ের অদ্ভুত জেদের গল্প ওঠে, তখনই ফুটবল রোমান্টিকদের মনে ভেসে ওঠে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ লিওনিদাসের সেই কাদা মাখা খালি পায়ের ফুটবলের কথা।

এমএমএম