World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

এবার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন আর্জেন্টিনার

এবার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন আর্জেন্টিনার

আর্জেন্টিনা কেবল দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে শীর্ষস্থানই অর্জন করেনি, বরং পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য বিস্তার করেছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ১৮টি ম্যাচ থেকে ৩৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে প্রতিপক্ষদের চেয়ে বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে থেকে মিশন শেষ করেছে।

তবে, তাদের এই যাত্রা পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না। ৪টি পরাজয় মোটেও ছোট কোনো সংখ্যা নয়; তাছাড়া ঘরের মাঠে উরুগুয়ের কাছে হার, প্যারাগুয়ের মাটিতে পরাজয় ও ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ড্রয়ের মতো কিছু অপ্রত্যাশিত ধাক্কা সমর্থকদের মনে কিছুটা সংশয় তৈরি করেছিল। অনেক ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে কষ্টার্জিত জয়ের ওপর সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি ম্যাচেই তারা ১-০ ব্যবধানে জয় পায়।

অবশ্য, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে তাদের ঘরের মাঠে এবং নিজেদের মাঠে উভয় লেগেই হারানোর এক পরম তৃপ্তি ছিল এই বাছাইপর্বে। প্রথমে ব্রাজিলের মাটিতে ১-০ গোলের জয়টি ২০২১ সালে রিও ডি জেনিরোতে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয়ের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। এরপর বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৪-১ গোলের এক দুর্দান্ত জয় পায় তারা। এর মাশুল হিসেবে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রধান কোচের পদ হারাতে হয় দরিভাল জুনিয়রকে।

আর্জেন্টিনাকে এবারও বিশ্বকাপ জয় ও নিজেদের মুকুট ধরে রাখার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য কিছু প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় আলবিসেলেস্তেরা এবার বেশ কিছু প্রশ্নচিহ্ন মাথায় নিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে নামছে।

লিওনেল মেসির বয়স এই জুনে ৩৯ বছর পূর্ণ হবে, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া আর দলে নেই এবং দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে খেলা বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ সমর্থকদের মনে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত মার্চ মাসে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়টিকে একটি অর্থপূর্ণ পরীক্ষার চেয়ে বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর মতোই বেশি মনে হয়েছে। যা বিশ্বকাপের আগে দলের আসল রূপ বোঝার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

সেই ম্যাচের পর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ স্পেনের বিপক্ষে ‘ফাইনালিসিমা’ ম্যাচটি বাতিল হওয়াকে একপ্রকার স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন: ‘ভাগ্যিস ম্যাচটি খেলা হয়নি। আমরা যদি ওই ম্যাচের মতো পারফর্ম করতাম, তবে নির্ঘাত হেরে যেতাম।’

আপাতত আর্জেন্টিনার প্রাথমিক লক্ষ্যটি বেশ সহজ ও হাতের নাগালেই মনে হচ্ছে: আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানকে নিয়ে গড়া গ্রুপ পর্ব থেকে পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ হওয়া। এরপর কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।

আর্জেন্টিনার কোচ: লিওনেল স্কালোনি

আর্জেন্টিনার এই সাফল্যের মূল কাণ্ডারি হলেন লিওনেল স্কালোনি। মে মাসে ৪৮ বছরে পা দেন এই কোচ। বহু বছর ব্রাজিলের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকার পর আলবিসেলেস্তেদের বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় ফিরিয়ে আনার পেছনে প্রধান অবদান এই মানুষটিরই।

সাবেক এই ফুল-ব্যাকের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোচিংয়ের তেমন বড় কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না, এর আগে তিনি কেবল সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন। তবে তার কৌশল ছিল অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট: মেসিকে কেন্দ্র করে দল সাজানো, সঠিক খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা, দলের ভেতর একতা তৈরি করা এবং একটি সুসংহত দল গড়ে তোলা।

তার পূর্বসূরিদের মতো স্কালোনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার চেয়ে বাস্তবসম্মত ফুটবলের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। আর তার এই নির্দেশনায় মেসি এবং আর্জেন্টিনা অবশেষে একের পর এক ট্রফি জিততে শুরু করে।

দলটি ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয় করে এবং এর মাঝে ২০২২ সালে ঘরে তোলে বিশ্বকাপ ট্রফি; যার মাধ্যমে ডিয়েগো ম্যারাডোনার যুগের পর দীর্ঘদিনের ট্রফিখরা ঘোচে দলটির।

মেসির দিকে বিশেষ নজর

লিওনেল মেসি খুব সাধারণভাবেই বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং তর্কের খাতিরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার। চার বছর আগে তিনি আর্জেন্টিনাকে এমন একটি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, যা ১৯৮৬ সালের পর থেকে দেশটির জন্য এক অধরা স্বপ্ন হয়ে ছিল। এখন তিনি আবারও সেই একই লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

বয়স ৩৯-এর কোঠায় পৌঁছানো সত্ত্বেও, মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। ২০২৫ মৌসুমে তার করা ২৯টি গোল এবং ১৬টি অ্যাসিস্ট মায়ামিকে শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেছিল; যার মাধ্যমে মেসি আবারও নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। চলতি মৌসুমেও তিনি পারফরম্যান্স ও গোল—উভয় দিক থেকেই দারুণ ফর্মে রয়েছেন।

কয়েক বছরের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা যাবে মেসিকে। তবে এখন মূল প্রশ্ন হলো—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে তিনি এখনও সেই আগের মতো এলিট বা শীর্ষ স্তরের পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারবেন কি না। আর্জেন্টিনা সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ না খেলায় এর পক্ষে বা বিপক্ষে তেমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর এই অনিশ্চয়তা দলটির জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ তারা এখনও তাদের অধিনায়কের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সূচি

১৬ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া — কানসাস সিটি স্টেডিয়াম

২২ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া — ডালাস স্টেডিয়াম

২৭ জুন: জর্ডান বনাম আর্জেন্টিনা — ডালাস স্টেডিয়াম

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাস

কনফেডারেশন: কনমেবল

সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২)

সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (চ্যাম্পিয়ন)

প্রথম বিশ্বকাপ: উরুগুয়ে ১৯৩০

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ১৯ বার (১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)

টানা বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড: ১৪ বার (বর্তমান)

বিশ্বকাপ আয়োজন: ১৯৭৮ সালে

বিশ্বকাপের সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ- ৮৮, জয়- ৪৭, ড্র- ১৭, হার- ২৪, গোল দিয়েছে- ১৫২, গোল খেয়েছে- ১০১

আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ

দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তি বিশ্বকাপের একেবারে শুরু থেকেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসরের মাত্র ১৩টি দলের মধ্যে তারা অন্যতম ছিল এবং ফাইনালে পৌঁছে একটি দুর্দান্ত টুর্নামেন্ট উপহার দিয়েছিল, যেখানে তারা আয়োজক উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিবেশী দলটির কাছে ৪-২ ব্যবধানে হার মানতে হয়। ৮টি গোল করে গুইলার্মো স্ট্যাবিল ছিলেন সেবার আর্জেন্টাইনদের প্রধান কাণ্ডারি এবং তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

আর্জেন্টিনার সর্বশেষ বিশ্বকাপ

কাতারে আর্জেন্টিনার জন্য সবকিছু একদম নিখুঁতভাবে মিলে গিয়েছিল। এমনকি উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে তাদের সেই অপ্রত্যাশিত হারটিও এই দক্ষিণ আমেরিকান জায়ান্টদের ভাগ্য বদলাতে সাহায্য করেছিল। ওই ধাক্কাই জুলিয়ান আলভারেজ এবং এনজো ফার্নান্দেজের মতো তরুণদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিল—যারা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন বেঞ্চের খেলোয়াড় হিসেবে। কিন্তু পরবর্তীতে দলের প্রধান অবদানকারী এবং নিয়মিত একাদশের সদস্য হয়ে ওঠেন। এই হার স্কালোনির শিষ্যদের আরও জাগিয়ে তুলেছিল, যার ফলে তারা দ্রুতই নিজেদের ছন্দ ফিরে পায়; যার প্রথম শিকার হয় মেক্সিকো এবং এরপর পোল্যান্ড।

নকআউট পর্বে এসে আর্জেন্টাইনরা তাদের আসল ছন্দ খুঁজে পায়, যদিও তাদের প্রতিটি ম্যাচই ছিল চরম নাটকীয়তায় ঠাসা। শেষ ১৬-র লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করার পর নেদারল্যান্ডসের সাথে ২-২ গোলে উত্তেজনাকর ড্র শেষে পেনাল্টি শুট-আউটে কোনোমতে পার পায় তারা। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, ফাইনাল ম্যাচটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্নায়ুযুদ্ধের উদাহরণ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আর মাত্র দশ মিনিট বাকি থাকতে আলবিসেলেস্তেরা ২-০ ব্যবধানে এবং অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজেদের করে নিতে তাদের আবারও বুক ধড়ফড় করা পেনাল্টি শুট-আউটের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছিল।

আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা

পাঁচটি বিশ্বকাপে (২০০৬ থেকে ২০২২) অংশ নেওয়া সত্ত্বেও আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রাণভোমরা মেসি এখনও গুইলার্মো স্ট্যাবিলের মতো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেননি। তবে এটিই সেই গুটিকয়েক অর্জনের একটি যা এই খুদে জাদুকরের ঝুলিতে এখনো আসেনি। প্রকৃতপক্ষে, নিজের অসংখ্য রেকর্ডের মাঝে মেসি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদার অধিকারী। যেখানে তার গোলসংখ্যা ১৩টি। এই তালিকায় ১০টি গোল নিয়ে তাঁর ঠিক পরেই অবস্থান করছেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়

মেসি কেবল নিজের দেশের হয়েই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় শীর্ষে নন, বরং যেকোনো দেশের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ডটি তার দখলে। এই পরিসংখ্যানটি কেবল এই ফরোয়ার্ডের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রমাণই দেয় না, বরং বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার হেভিওয়েট মর্যাদাকেও ফুটিয়ে তোলে। মেসি পাঁচটি বিশ্বকাপ জুড়ে (জার্মানি ২০০৬, দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০, ব্রাজিল ২০১৪, রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২) মোট ২৬টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় জয়

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা দুইবার সর্বোচ্চ ৬ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে। প্রথমবার ২১ জুন ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বে পেরুকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল এবং দ্বিতীয়বার ১৬ জুন ২০০৬ সালে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জেরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসো;

ডিফেন্ডার: লিওনার্দো বালের্দি, গঞ্জালো মন্তিয়েল, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, ফাকুন্দো মেদিনা ও নাহুয়েল মলিনা;

মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো দে পল, ভ্যালেন্তিন বার্কো, জিওভানি লো সেলসো, এসেকুয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ;

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেস, থিয়াগো আলমাদা, জিউলিয়ানো সিমিওনে, নিকোলাস পাজ, জোসে ম্যানুয়েল লোপেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

এফএইচএম