মিরপুরে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেনের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল সফরকারীরা। ঠিক তখনই আবার আঘাত হানলেন তাসকিন আহমেদ। তার জোড়া আঘাতে নতুন করে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেই নাটকীয় মুহূর্তের পরই খেলা থামিয়ে দিল বৃষ্টি।
৪২ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৮৭ রান। বৃষ্টি খুব বেশি তীব্র না হলেও আম্পায়াররা দ্রুত খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে নিয়ে যান। বৃষ্টি থামার পর অস্ট্রেলিয়া কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। এরপরই জয়ের লক্ষ্য পাবে বাংলাদেশ।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই দুঃস্বপ্নের শুরু অস্ট্রেলিয়ার। ইনিংসের প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদের আঘাত, পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের জোড়া সাফল্য। তাতেই ওয়ানডে ইতিহাসে বিরল এক লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ইতিহাসে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা, যেখানে কোনো দল ইনিংসের শুরুতেই শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়েছে। আগের তিন ঘটনার একটি ছিল বাংলাদেশের। ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম তিন বলেই তিন উইকেট হারিয়েছিল টাইগাররা।
শুরুর ধাক্কার পরও অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয় থামেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ ও তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে শতরানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় সফরকারীরা।
সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন বার্টলেট ও লাবুশেন। সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে এনে দেন লড়াই করার মতো অবস্থানে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের গতি বদলে যেতে পারে, তখনই দৃশ্যপটে ফের তাসকিন।
৪১তম ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার বাংলাদেশের হাতে এনে দেন ডানহাতি এই পেসার। তার বলেই বোল্ড হন বার্টলেট। বিদায়ের আগে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এর আগে তার সর্বোচ্চ রান ছিল মাত্র ৮।
তাসকিনদের আগুনঝরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া এখনও চাপে। তবে বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে ম্যাচ আবার শুরু হলে শেষ পর্যন্ত তারা কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন মিরপুরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আইএইচ
