রাইলি মেরেডিথের দেওয়া বাউন্সারে দুর্দান্ত এক হুক শট মেহেদী হাসান মিরাজের! বল সোজা সীমানার বাইরে। আম্পায়ার দুই হাত উঁচু করে ছক্কার ঘোষণা দিতেই উল্লাস ফেঁটে পড়ে পুরো মিরপুর স্টেডিয়াম। দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার পর ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতল টাইগাররা।
দলনেতা মেহেদী মিরাজের শেষের ছক্কা কিংবা শান্ত-সৌম্য ব্যাট হাতে দারুণ ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আবার দারুণ এক ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়ও। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে এদের সবাই প্রশংসার দাবিদার।
কিন্তু এদের পারফরম্যান্সের আড়ালে ঢাকা পড়বে না দুই টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের দাপুট বোলিং পারফরম্যান্স। প্রকৃতপক্ষে এই দুই পেসারের কাছেই ধরাশয়ী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক জশ ইংলিস। কিন্তু টস ভাগ্যে জিতলেও তাদের ইনিংসের শুরুটা ভালো করতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাজঘরের ফেরান ওপেনার ম্যাথিউ শর্টকে। ইনিংসের পঞ্চম বলে এই অজি ব্যাটারকে ক্লিন বোল্ড করেন তাসকিন। প্রথম ওভারে আসেনি কোনো রান।

দ্বিতীয় ওভার করার জন্য মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। উইকেট নেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখেন কাটার মাস্টারও। অবশ্য তাসকিনের চেয়ে একধাপ এগিয়েই থাকেন এই বাঁহাতি পেসার। তাসকিন নিয়েছিলেন মেডেনসহ এক উইকেট। সেখানে মুস্তাফিজ মেডেন ওভার করার পাশাপাশি উইকেট নিয়েছেন দুটি।
তার করা প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড হন অজি ওপেনার কুপার কনোলি। পরের উইকেটে নেমে ফিজকে দেখে-শুনেই খেলছিলেন ম্যাট রেনশো। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। একই ওভারের শেষ বলে কট বিহাইন্ড হন তিনিও। ফলে ২ ওভার শেষে কোনো রান না তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। মূলত এই দুই ওভারে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা।
প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি অকপটে শিকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিশও। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সত্যিই তাই। এত দ্রুত (ম্যাচের শুরুতে) ৩টি উইকেট হারিয়ে ফেললে ঘুরে দাঁড়ানোটা সবসময়ই কঠিন। প্রথম কয়েকটা ওভার যদি আমরা কোনো উইকেট না হারিয়ে পার করে দিতে পারতাম, তাহলে খুব ভালো হতো। উইকেটটা কিন্তু যথেষ্ট ভালোই ছিল।’

এদিকে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়া দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান দলনেতা জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন। দুজন ব্যর্থ হয়ে ফিরলে বাংলাদেশের দলের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্নাস লাবুশেন ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটার জাভিয়ের বার্টলেট। দুজনই ফিফটি পূরণ করেন।
ম্যাচের ৪১তম ওভারে ফের একবার বাংলাদেশ দলের ত্রাতা হয়ে আসেন তাসকিন আহমেদ। এই জুটি ভাঙার পাশাপাশি একই ওভারে নেন দুটি উইকেট। এরপর আর মাত্র এক ওভার মাঠে বল গড়ায়। তারপর নেমে আসে বৃষ্টি। ওই ওভারে তাসকিন দুই উইকেট নেওয়ার কারণে ডিএল ম্যাথডে খুব বেশি সুবিধা নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। আর ৪১ ওভারে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ১৯২।
এরপর বাংলাদেশি ব্যাটারদের কল্যাণে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৪২ রান করে করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ হোসেন।
এমএমএম/
