রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের প্রত্যাশায় অপেক্ষাটা কেবলই বেড়েছে ব্রাজিলের। ২০০২ সালের পর থেকে সেলেসাওরা প্রতি আসরেই একই লক্ষ্য নিয়ে নেমেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল ধরা দেয়নি। কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি সেই আশায় নতুন জোগান দিয়েছেন। সবমিলিয়ে তার ওপর এখন ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের চেয়েও চাপ বেশি বলে মনে করেন গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।
চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ব্রাজিলের প্রধান এই গোলরক্ষক বলেন, ‘সম্ভবত তার অবস্থানে থাকা মানে দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেয়েও বেশি চাপ সামলানো।’ ১৯৩৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে টানা ২০টি ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল। আজ (শনিবার) দিবাগত রাতে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে তারা ১৭টি ম্যাচ জিতেছে।
কিন্তু এখন আর সেই অবস্থানে নেই সেলেসাওরা। ২০০২ সালের পর থেকে ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এরপর মাত্র একবার কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে বেলো হরিজন্তেতে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জাজনক পরাজয় এখনও তাড়া করে বেড়ায় দলটিকে।
তবে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার ইতিহাস বদলাতে আগ্রহী, ‘আমরা এখানে ইতিহাস বদলাতে এসেছি। ব্রাজিলকে আবার সেই জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চাই, যেখান থেকে তাদের কখনোই সরে যাওয়া উচিত ছিল না– শীর্ষস্থানে। আমরা অন্য বড় দলগুলোর সমপর্যায়ে আছি।’

সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলেছিল মরক্কো। তাদের সঙ্গে ২০২৩ সালে সর্বশেষ দেখায় প্রীতি ম্যাচে হেরেছে ব্রাজিল। এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে হাকিমি-দিয়াজদের সমন্বয়ে গড়া অ্যাটলাস লায়ন্সরা বিতর্কিতভাবে আফ্রিকান শিরোপাও জিতেছে। যদিও সেনেগালের সঙ্গে হওয়া সেই ম্যাচের ফল এখনও আদালতে ঝুলে আছে।
ফিফার বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ষষ্ঠ, আর মরক্কোর সপ্তম। কেবল মরক্কোই নয়, আধুনিক ফুটবলের কোনো দলই ছোট করার মতো নয় বলে জানালেন আনচেলত্তি, ‘আধুনিক ফুটবলে কোনো ছোট দল নেই। তারা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো শক্তিশালী।’
এএইচএস

