অন্যবারের মতো এবার ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপে আসেনি ব্রাজিল। বাছাইপর্বে বাজে পারফরম্যান্স, কোপা আমেরিকা থেকে আগেভাগে বিদায় এবং দুই কোচের পরিবর্তন ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এবারের বিশ্বকাপেও সেলেসাওদের নিয়ে যারা আশাবাদী নয়, তাদের জন্য কিছু কারণ শিরোপা জয়ের বিশ্বাস এনে দিচ্ছে।
২৪ বছরের খরা
ব্রাজিলিয়ানরা ২৪ বছরের বেশি কখনো শিরোপা না জিতে থাকেনি। বর্তমান খরা ঠিক সেই সময়ে গিয়ে পৌঁছেছে। সেলেসাওরা ২০০২ সালের পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়নি। অন্য শিরোপাগুলো এসেছিল ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালে। তারা এবার শিরোপা জিততে না পারলে খরা বেড়ে দাঁড়াবে ২৮ বছরে।
বিশ্বকাপে ভেন্যু
১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালের মধ্যে ২৪ বছরের ব্যবধান। আর ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ কোথায় হয়েছিল? যুক্তরাষ্ট্রে। ব্রাজিলিয়ানরা সবগুলো ম্যাচ, সম্ভাব্য ফাইনালও খেলবে আমেরিকার মাটিতে, যেখানে ৩২ বছর আগে চতুর্থ ট্রফি জিতেছিল।
১৯৯৪ সালে ব্রাজিল তাদের শিরোপা অর্জন করেছিল ক্যালিফোর্নিয়ার রোজ বোলে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল হবে নিউ ইয়র্কের মেট লাইফ স্টেডিয়ামে। কে জানে, হয়তো পশ্চিম উপকূলে চতুর্থ শিরোপা জেতার পর পূর্ব উপকূলে পাবে হেক্সার দেখা।
তিন প্রজন্মের মিলন
বর্তমান প্রজন্মও ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের বিশ্বাস এনে দিচ্ছে। ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের বর্তমান প্রজন্ম ততটা খারাপ নয়। হয়তো অন্য সময়ের মতো প্রত্যেক পজিশনে সুপারস্টার কেউ নেই। কিন্তু গুনেমানে তারা প্রত্যেকেই দুর্দান্ত। রক্ষণ থেকে আক্রমণে, ব্রাজিলের আছে বিশ্বের শীর্ষ ক্লাবের খেলোয়াড়রা।
তার চেয়েও বড় কথা, কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াড তিনটি ভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের একত্রিত করেছে। তারা অনেক বেশি অভিজ্ঞ, যারা একসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে খেলছে, যেমন নেইমার, কাসেমিরো, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রো। কিছু খেলোয়াড় ইউরোপিয়ান ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত, ফিটনেসেও চূড়ায়। এই যেমন আলিসন, মারকুইনহোস, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া। আরেক প্রজন্মের তরুণ খেলোয়াড়রা তাদের জায়গা পাকা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যেমন এন্দ্রিক, রায়ান ও ইগোর থিয়াগো।
কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা
ব্রাজিলের এমন একজন কোচ, যিনি নকআউট টুর্নামেন্টের জন্য বিশেষ ধরনের। আর সেখানে খুবই সফল। কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বের প্রধান ক্লাব টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। কোচ হিসেবে তার শিরোপা পাঁচটি।
কিন্তু ইতালিয়ান শুধু নকআউট প্রতিযোগিতাতেই দক্ষ আর সফল নয়, তিনি পাঁচটি মেজর ইউরোপিয়ান লিগের সবগুলোতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া একমাত্র কোচ। আরেকটা ব্যাপার হলো, তিনি ইতোমধ্যে জাতীয় দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে শিরোপা জিতেছেন ক্লাব পর্যায়ে, রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুস ও কাসেমিরোর সঙ্গেই।
ফেভারিট হওয়ার চাপ নেই
ব্রাজিল এই বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিটদের তালিকায় নেই। এটা তাদের জন্য বেশ স্বস্তির ব্যাপার। ২০ বছর আগে ২০০৬ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে গিয়েছিল প্রত্যাশার ভার নিয়ে। তারকাখচিত দল ও ফেভারিটদের দৌড়ে ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। তারা ফ্রান্সের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেয়।
২০১৪ সালে স্বাগতিক হওয়ার কারণে শিরোপার প্রধান দাবিদার ছিল। বিশেষ করে তখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে কনফেডারেশন্স কাপ জেতার পর। দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাইয়ে উড়ন্ত পারফরম্যান্সের পর ২০১৮ ও ২০২২ সালে তিতের দল উচ্চাশা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল।
কিন্তু ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে পা রেখেছিল শঙ্কা আর আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নিয়ে। তাদের দেশের মানুষ কোনো আশাই দেখতে পাচ্ছিল না সেই দুটি আসরের দল নিয়ে।
২০০২ সালের সঙ্গে মিল
এছাড়া ২০০২ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গেও এবারের আসরের দারুণ মিল। ২০০২ সালে কয়েকটি ইনজুরির ধকল সামলে রোনালদো বিশ্বকাপে এসেছিলেন শঙ্কা নিয়ে। ২০২৬ সালেও দলের প্রধান তারকা নেইমারও শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত আছেন।
ওইবার ব্রাজিল বাছাইপর্বে সবচেয়ে বাজে সময় পার করেছিল। ২০০১ সালের কোপা আমেরিকাতে হন্ডুরাসের বিপক্ষেও ছিটকে যায় তারা। আর এই আসরের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে ওইবারের রেকর্ডও ছাপিয়ে গেছে ব্রাজিল। আর কোপা আমেরিকা থেকেও বাদ পড়েছে আগেভাগে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে চার কোচ জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন, রামোন, দিনিজ, দোরিভাল ও আনচেলত্তি। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পথেও চার কোচ লুক্সেমবুর্গো, লিয়াও, কানদিনিয়ো ও ফেলিপাও ছিলেন তাদের ডাগআউটে। এমনকি ২৪ বছর আগেও ব্রাজিল ঠিক সি গ্রুপেই ছিল।
এফএইচএম

