যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ফুটবলে সারা দেশ অনেকটাই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় বিভক্ত। ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক আমিনুল ব্রাজিল সমর্থন করছেন।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০০২ সালের পর আর ফাইনালেই খেলতে পারেনি। গত পাঁচ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন ব্যর্থ হয়েছে। এবার ষষ্ঠ মিশনে হেক্সার স্বপ্নে বিভোর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপনে আমিনুল বলেন,‘২০০২ সালে ব্রাজিল সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার ব্রাজিলের দলীয় ভারসাম্য ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আশাব্যাঞ্জক তাই কাঙ্ক্ষিত হেক্সা মিশন সফলের আশা করছি।’
বিশ্বকাপের সব খবর সবার আগে পেতে ক্লিক করুন এখানে
বিশ্বকাপের মতো আসরে শুধু ফুটবলারদের নৈপুণ্য দিয়ে নয় কোচের মুন্সিয়ানাও প্রয়োজন। ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর ভরসা রাখতে চান আমিনুল,‘আনচেলত্তি ফুটবল বিশ্বে শীর্ষ কোচদের একজন। বিশেষ করে ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনি দারুণ সফল। রিয়াল মাদ্রিদের মতো তারকা নির্ভর ও সমর্থকপুষ্ট দল সামলিয়েছেন ফলে তিনি ব্রাজিলের চাপ দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।’
বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আনচেলত্তির ওপর ভরসা রাখলেও ইতিহাস তেমন আশা দেখাচ্ছে না। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে যত দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বদেশি কোচ দিয়েই। কোনো বিদেশি কোচ এখনো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায়নি। ব্রাজিল এবার চ্যাম্পিয়ন হলে সেটার ব্যত্যয় ঘটবে,‘আসলে খেলাধুলায় অনেক রেকর্ড দ্রুত হয় আবার কখনো কয়েক যুগ পরপর হয়। ফুটবল বিশ্বকাপের অনেক কীর্তি ব্রাজিলের। বিশ্বকাপের একমাত্র দল যারা সব আসরে অংশ নিয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন। কোচদের বিরল রেকর্ডটি হয়তো ব্রাজিলের হাত ধরেই ভাঙতে পারে।’

দলীয় শক্তি যাই থাকুক নামের ভারে ব্রাজিল সব সময়ই ফেভারিট। তবে এবার ব্রাজিলের চেয়ে নানা বিশ্লেষণে ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখছে শিরোপা দৌড়ে। অন্য দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলেও ব্রাজিলের হাতেই শিরোপা দেখতে চান আমিনুল,‘আর্জেন্টিনা, স্পেন অবশ্যই ভালো দল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। এরপরও প্রত্যাশা ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখার। তবে বাস্তবতার দৃষ্টিতে ফ্রান্স খুবই ব্যালেন্সড দল, তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ সবচেয়ে শক্তিশালী।’
পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বিশ্বকাপ খেলা দেখার মজাই আলাদা। খেলোয়াড়ী জীবনে ক্লাব কিংবা বাসায় বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন। খেলা ছাড়ার পর রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত ছিলেন। এখন দেশের যুব ও ক্রীড়া সমাজের অভিভাবক। তাই একেবারে নির্ভার হয়ে খেলার সুযোগ তেমন নেই আমিনুলের,‘অনেক কর্মব্যস্ততা এর মধ্যেও খেলা দেখার সময় ও সুযোগ বের করতেই হয়।’
এজেড/এফআই

