শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, ২৭৫ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব একটা কঠিন হবে না। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিল সফরকারীরা। তবে মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। শরিফুল ইসলামের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর তাসকিন আহমেদের বোলিং ঝলকে আরও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে ২৭৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণ করে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় তারা। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর তখন পুরোপুরি আধিপত্য দেখাচ্ছিল সফরকারীরা। এরপরই আক্রমণে আসেন শরিফুল।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ না পাওয়া এই বাঁহাতি পেসার নিজের প্রথম ওভারেই বদলে দেন ম্যাচের গতি। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিসকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। দুই বল পর ফেরান ম্যাট রেনশোকেও। মুহূর্তের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে হোঁচট খায় অস্ট্রেলিয়া, আর নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশ।
বিশেষ এই স্পেলটি শরিফুলের জন্যও স্মরণীয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই তার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হলেও ৫০ ওভারের সংস্করণে অজিদের বিপক্ষে এটাই ছিল তার অভিষেক।
তবে শরিফুলের জোড়া আঘাতের পরও থেমে থাকেনি অস্ট্রেলিয়া। কুপার কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি দ্রুত রান তুলতে থাকেন। পাওয়ার প্লে শেষে ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৩ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। কিন্তু বাংলাদেশ তখনও আক্রমণ চালিয়ে গেছে। পাওয়ার প্লে শেষে নতুন স্পেলে ফিরে এসে আঘাত হানেন তাসকিন।
তাসকিনের উইকেটের পেছনে বড় কৃতিত্ব প্রাপ্য সৌম্য সরকার। শর্ট কাভারে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরেন তিনি। তাতে ৮ রান করে ফিরতে হয় অ্যালেক্স ক্যারিকে। গুরুত্বপূর্ণ এই উইকেটটি বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার ওপর।
এর আগে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে ভর করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ। সেই সংগ্রহ রক্ষার মিশনে শুরুতে শরিফুলের জোড়া আঘাত, পরে তাসকিনের ব্রেকথ্রু ম্যাচে স্বাগতিকদের লড়াইয়ে ভালোভাবেই ফিরিয়ে এনেছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭১ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ২০৪ রান।
আইএইচ
