World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

তাহিত চং : কুরাসাওয়ের একমাত্র ‘আসল খেলোয়াড়’

তাহিত চং : কুরাসাওয়ের একমাত্র ‘আসল খেলোয়াড়’

২০২৬ বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক অংশগ্রহণের পেছনে একটি অদ্ভুত তথ্য লুকিয়ে রয়েছে। ক্যারিবিয়ান দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে ডিক অ্যাডভোকাট যে ২৬ জন খেলোয়াড়কে ডেকেছেন, তাদের মধ্যে কেবল একজনই প্রকৃতপক্ষে কুরাসাওয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি হলেন তাহিত চং—যিনি এই দলের অন্যতম সুপরিচিত নাম এবং দলের বড় ভরসার প্রতীক।

তার দলের অন্য খেলোয়াড়রা নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং পারিবারিক সূত্রের কারণে কুরাসাও দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অপরদিকে, চং জন্মগ্রহণ করেছেন কুরাসাওয়ের রাজধানী উইলেমস্টাডে। এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণ হলো এই দুটি অঞ্চলের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক: কুরাসাও হলো নেদারল্যান্ডস কিংডমের অন্তর্গত একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। এর ফলে ইউরোপে জন্মগ্রহণকারী অনেক ফুটবলারই কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই খেলোয়াড় নিজের জাতীয় দলেই একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।

ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু ও ইউরোপ যাত্রা

তার ফুটবলের গল্প শুরু হয় উইলেমস্টাডেই, যেখানে ইউরোপে পাড়ি জমানোর আগে তিনি ফুটবলে প্রথম লাথি মারেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি ফেইনুর্ডের যুব একাডেমিতে যোগ দেন এবং তার গতি ও উইংয়ে খেলার দক্ষতার কারণে দ্রুতই সবার নজরে আসেন। বড় সুযোগটি আসে ১৬ বছর বয়সে, যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমি তাকে দলে নেয়। সেখানে তিনি সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন এবং পরবর্তীতে ওলে গানার সুলশায়ারের অধীনে মূল দলে তার অফিসিয়াল অভিষেক ঘটে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার আগমন বড় প্রত্যাশা তৈরি করলেও, ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিনি নিজেকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। এরপর তিনি এক দীর্ঘ সফরে বের হন, যার মধ্যে ছিল: ওয়ের্ডার ব্রেমেন, ক্লাব ব্রুগা, বার্মিংহাম সিটি, লুটন টাউন, শেফিল্ড ইউনাইটেড।

তার ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন থাকলেও, তিনি সবসময়ই ইউরোপীয় পেশাদার ফুটবলে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। প্রকৃতপক্ষে, ইংল্যান্ডে কম খেলার সুযোগ পাওয়ার একটি মৌসুম পার করার পর এই বিশ্বকাপটি তার জন্য ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে আবারও মেলে ধরার একটি আদর্শ সুযোগ।

নেদারল্যান্ডস ছেড়ে কুরাসাও নির্বাচন

বহু বছর ধরে মনে হচ্ছিল চং হয়তো নেদারল্যান্ডস দলের হয়েই খেলবেন। তিনি অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত ডাচদের প্রতিটি যুব স্তরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং কমলারঙা জার্সিতে ৪০টিরও বেশি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তবে যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে, তখন তিনি জানান যে এটি একটি আবেগীয় এবং পারিবারিক বিষয় ছিল। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার ভাবনাটা বহু বছর ধরেই মনের ভেতর ছিল, কারণ এটাই আমাদের আসল ঘর।’

তার এই সিদ্ধান্ত তাকে এমন একটি দলের প্রতীক বানিয়ে তুলেছে যা উত্তর আমেরিকায় ইতিহাস গড়তে চাইছে। কুরাসাও যখন তাদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, চং তখন তার দলের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দেশে জন্মগ্রহণ করার এক অনন্য গৌরব বহন করছেন। 

এফএইচএম