বিজ্ঞাপন

অর্থের অভাবে মাকে সঙ্গে আনতে পারিনি : কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

অর্থের অভাবে মাকে সঙ্গে আনতে পারিনি : কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। কিছুক্ষণ পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না। চারপাশ থেকে ছুটে এলেন সতীর্থরা। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ কাঁধে হাত রাখলেন। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার চোখের জল তখন শুধু ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি।

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। আর এই অবিশ্বাস্য ফলের সবচেয়ে বড় নায়ক ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।

ম্যাচ শেষে তার কান্নার কারণও জানা গেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে ভোজিনিয়া বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। কিন্তু আজ তারা এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সময়মতো সবকিছু করা সম্ভব হয়নি।’

FIFA World Cup 2026: Who is Vozinha? Meet the 'Voice' of Cabo Verde's  national team

ভোজিনিয়ার এই আবেগ ছুঁয়ে গেছে ফুটবলবিশ্বকেও। বিবিসির বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন লিখেছেন, ‘পুরো ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে মাঠে যা দেখালেন, তা অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে সব ক্যামেরা ছিল তার দিকে। সতীর্থরা আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন তাদের প্রকৃত নায়ককে।’

সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষককে। তার ভাষায়, ‘আমি সত্যিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। এই একটি পয়েন্ট কেপ ভার্দের প্রাপ্য ছিল। আজকের রাতটা শুধু তাদের। ভোজিনিয়াকে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরই প্রায় কান্না চলে আসছিল।’

এইচজেএস 

বিজ্ঞাপন