কিছু সময়ের জন্য মনে হতে পারে ইন্টার মায়ামির খেলা দেখছেন। মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো ডি পল বল বাড়ালেন, যা ধরে চিরচেনা ভঙ্গিতে এগিয়ে গিয়ে ২৫ গজ দূর থেকে লিওনেল মেসির শট। তার বাঁ পায়ের বাঁকানো সেই শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে প্রতিপক্ষের জালে। না, একই ক্লাবে খেলা দুই সতীর্থ একই চিত্রপট লিখলেন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে। প্রথমার্ধ শেষে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
চার বছর আগে যেখানে শেষটা করেছিলেন, যেন সেখান থেকেই নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের সূচনা করলেন মেসি। কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি শুরুতেই আলজেরিয়ার জালে বল জড়ান। কিন্তু ডি-বক্সের কাছে গিয়ে গোলরক্ষককে বোকা বানানোর আগে মেসি অতিক্রম করেন অফসাইডের সীমা।
মিনিট তিনিকের মাথায় আলজেরিয়ার তরুণ প্রতিভা ইব্রাহিম মাজা দারুণভাবে রক্ষণচেরা পাস বাড়ান। যা ধরে ফারেস চাইবি এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে ফাঁকি দেওয়া মাটি কামড়ানো শট নেন, দিবু পা ও হাত বাড়ালেও সেটি থামাতে পারেননি। তবে খানিক বাদেই ভ্রম কাটে আলজেরিয়ার। বেশ আগেই ভেতরে ঢোকায় অফসাইড হয়েছেন চাইবি, ফলে গোল বাতিল।
শুরুতেই গোল বাতিল হলেও মেসি-জাদু তো আর থেমে নেই। ১৬ মিনিটের মাথায় মিডফিল্ড থেকে ডি পলের বল নিয়ে কিছুটা এগিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক শট নেন, আলজেরিয়ার গোলরক্ষক ও জিনেদিন জিদানপুত্র লুকা জিদান তাতে হাত ছুঁঁয়েছেন। কিন্তু মেসির দুর্দান্ত শট তাকে ফাঁকি দিয়েই জালে জড়ায়।

চলতি আসর শুরুর আগে বিশ্বকাপে রেকর্ড সর্বোচ্চ (১৬) গোল করা মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছোঁয়া ও ছাড়িয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। ফ্রান্সের ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপে সেই সংখ্যাটিকে ১৪-তে নিয়ে যান। এবার মেসিও সমান ১৪তম গোল পেলেন বিশ্বকাপে। আন্তজার্তিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ এই গোলদাতা ১১৮তম গোল করলেন।
বিরতিতে যাওয়ার আগে উভয় দলই আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে আর কেউই গোল পায়নি। ফলে পরিবর্তন হয়নি ১-০ স্কোরলাইনও। এখন পর্যন্ত পজেশন ও গোলের লক্ষ্যে শট নেওয়ায় কেউ খুব একটা পিছিয়ে নেই।
এএইচএস

