আরও একবার মেসি জাদুতে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপের মঞ্চে আগেও তার ম্যাজিক দেখা গেছে। কাতার বিশ্বকাপে তার বা পায়ের জাদুতে শিরোপাখরা ঘুচেছে আর্জেন্টিনার। আরেকটা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী মাচে মাঠে নেমে যেন পুরোনো সেই ক্ষুধার্ত মেসিরই দেখা মিলল। আজ কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন মহাতারকা নতুন ইতিহাস লিখলেন। অতিমানবীয় হ্যাটট্রিক করে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ফুটবলের এই জাদুকর।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসিময় ম্যাচে একটি ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন মেসি। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মাঝে-মধ্যেই প্রতিপক্ষ ও প্রতিপক্ষের সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, আর্জেন্টাইন তারকা নাকি রেফারিদের কাছ থেকে ‘বিশেষ সুবিধা’ পান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচেও সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছে।
— Daily Mail Sport (@MailSport) June 17, 2026
প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝে আলজেরিয়া অধিনায়ক আইসা মান্দির ওপর মেসির একটি ট্যাকল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বল নিয়ন্ত্রণে থাকা মান্দির ডান পায়ের কাফ ও অ্যাকিলিস টেনডনে স্টাড উঁচিয়ে আঘাত করেন মেসি।
ঘটনাটি ঘটে মেসির প্রথম গোলের পর। আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির পায়ে বল ছিল। মেসি তার থেকে খানিকটা দূরে ছিলেন। বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল মান্দির পায়ে। হঠাৎ খানিকটা দৌড়ে গিয়ে বল কাড়ার চেষ্টা করেন মেসি। পেছন থেকে ফাউল করেন তিনি। রেফারি সিমন মার্সিনিয়াক ফাউল দিলেও কোনো কার্ড দেখাননি। হলুদ কার্ডও না।

পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, মান্ডির ডান পায়ের কাফ মাসল ও আখিলিস টেন্ডনের মাঝে মেসির বুটের আঘাত লেগেছে। তার বুটের স্টাড উপরের দিকে ছিল। ফুটবলের নিয়ম, কোনও ট্যাকলের ক্ষেত্রে বুটের স্টাড দেখা গেলেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারিরা। মেসি যেখানে মেরেছেন, সেখানে লাগলে বড় চোট পেতে পারেন ফুটবলাররা। তাই এই ধরনের ফাউলের ক্ষেত্রে অনেক সময় সরাসরি লাল কার্ডও দেখাতে পারেন রেফারিরা। কিন্তু পোল্যান্ডের রেফারি কোনো কার্ডই দেখাননি।
এই ঘটনার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মেসির সেই ট্যাকলের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছ। অনেকের মতে, মেসি ছিলেন বলেই রেফারি হয়তো কার্ড দেখাননি। অন্য কেউ সেই ফাউল করলে অন্তত হলুদ কার্ড দেখতেন। মেসির সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলেও সোচ্চার হয়েছেন অনেকে।
মেসি কি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন? এ নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। তবে একটি বিষয় নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই—ঘটনাটিতে মার্চিনিয়াকের সিদ্ধান্ত ছিল বেশ উদার। পরে সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দু’টি গোল করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন।
বিশ্বকাপে এখন তার গোলের সংখ্যা ১৬। জার্মান কিংবদন্তী মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে তিনি। পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করলেই ক্লোসাকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের মালিক হয়ে যাবেন তিনি।
এফআই

