ব্যাটিং ব্যর্থতায় সংগ্রহের খাতায় বড় রান নেই, তার ওপর ভেন্যুটা চট্টগ্রাম। অবিশ্বাস্য কিছু না হলে এমন ম্যাচ জেতার আশা করা বাংলাদেশের জন্য কঠিনই বটে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটাই হয়েছে। ব্যাটিং ধসের পর বোলাররা কিছু সাফল্য পেলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে লক্ষ্য তাড়ায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
চট্টগ্রামে টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু উইকেট পতনের মিছিলে ইনিংসটা বড় করতে পারেনি টাইগাররা। শেখ মেহেদীর অপরাজিত ২৯ রানে ১৯ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৩১ করে বাংলাদেশ। জবাবে ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জক ছিল না। মাত্র ১৩ রানের মাথায় জশ ইংলিসকে হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে অধিনায়কে বোল্ড করেন পেসার শরিফুল। তবে উইকেট হারালেও রানের গতি বাড়াতে থাকে অজি ব্যাটাররা। পঞ্চম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মিচেল মার্শ আউট হলেও পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে জয়ের ভিত গড়েন সফরকারীরা।
এদিকে ওয়ানডে সিরিজের ফর্মটা যেন টি-টোয়েন্টিতেও টেনে এনেছেন কুপার কনোলি। সবশেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাঁকানো এই ব্যাটার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ২৭ বলে ৪৭ রান। ফিফটি না পেলেও দলের জয়ে ছিল তার বড় অবদান। তবে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে আউট করে আন্তর্জাতিক উইকেটের যাত্রা শুরু করেন আবদুল গাফফার সাকলাইন।

এক ওভারের ব্যবধানে বাংলাদেশের লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। টিম ডেভিডকে ফাঁদে ফেলে লং অনে ক্যাচ বানান শেখ মেহেদী। এরপর অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরীকে রিশাদ এবং মন্থর গতির ব্যাটিং করা রেনশোকে ফেরান সাকলাইন। তবে এসব উইকেট কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন সাকলাইন। একটি করে উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী এবং রিশাদ হোসেন।
এর আগে দেশের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে মাঠে নামে বাংলাদেশ। যদিও চট্টগ্রামে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি টাইগাররা। শুরুতে দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান রানের দেখা পেলেও সেটা বড় হয়নি। বরং আচমকা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবেছে বাংলাদেশ।
দলীয় ২৬ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার তানজিদ তামিম। সাইফ কাটা পড়েন ৩৯ রানে। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর অধিনায়ক হৃদয়, সৌম্য, ইমন ও শামীম কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। এক প্রান্তে উইকেট পতনের মিছিল চলতে থাকায় রান তোলার গতি যেমন কমেছে, তেমনি বড় জুটির অভাব ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে।
মাঝের ওভারগুলোতে অজি স্পিনাররা চাপ তৈরি করে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত ছন্নছাড়া করে দেন। তাতে ৭৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়েন হৃদয়রা। এরপর অভিষিক্ত সাকলাইন একটি ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

রিশাদ হোসেনও দ্রুত ফিরে গেলে ১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারানোর লজ্জায় পড়ে স্বাগতিকরা। একসময় পুরো ২০ ওভার খেলা নিয়েও দেখা দেয় শঙ্কা। শেষদিকে শেখ মেহেদী হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে ইনিংস টেনে নেওয়ার পাশাপাশি দলের সংগ্রহও বাড়ান তিনি।
মেহেদীর অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস এবং মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ছোট অবদান বাংলাদেশকে তিন অঙ্কের ঘর পেরোতে সাহায্য করে। তবে সেটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। তিন উইকেট শিকারের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। সমান তিনটি উইকেট নেন জুয়েল ডেভিস। এছাড়া রেনশো দুই, আর নিখিল ও জনসন শিকার করেন একটি করে উইকেট।
আইএইচ
