৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচের সবগুলো ড্রয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পরের দিন যেন গোলের পর গোলের দেখা মিলল। বর্তমান বিশ্বের তিন তারকা- লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের পর জোড়া গোল করলেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনও। নিজ দলের হয়ে খেলতে নেমে জয়ের দেখা পেয়েছেন চারজনই।
সবশেষ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন কেইন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ী ছিলেন। দশম গোল করে যৌথভাবে ইংল্যান্ডের রেকর্ড বিশ্বকাপ গোলদাতা হলেন ৩১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। গ্যারি লিনেকারের পাশে তিনি।
দিনের সবচেয় বড় ধামাকাটি আসে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির পা থেকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচের রাতটিকে রাঙালেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক দিয়ে।
আর ৩৯তম জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে আগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েন তিনি। এই জাদুকরীর হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেললেন আর্জেন্টিনার এই ফুটবল জাদুকর।
এদিকে দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়েকে একাই টানলেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্ড। বোস্টন স্টেডিয়ামে ইরাকের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই জোড়া গোল করে দলকে ৪-১ গোলের বিশাল জয় উপকার দেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ৫৭তম গোলটি তুলে নিয়ে হালান্ড স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, এবার নরওয়ে বিশ্বকাপে কেবল অংশ নিতে আসেনি, দাপট দেখাতে এসেছে।
গ্রুপ ‘আই’ এর আরেক হাইভোল্টেজ ম্যাচের ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। গত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে এই আসরের প্রথম ম্যাচেই নিজের চেনা রূপ দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নিজের অতিমানবীয় গতিতে পরাস্থ করে দলের জয়ে অবদান রাখেন এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের গোলসংখ্যাকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন এই ফরাসি তারকা।
তিনটি গোল
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) - শূন্য অ্যাসিস্ট, ৮৪ মিনিট খেলেছেন
দুটি গোল
ফোলারিন বালোগান (যুক্তরাষ্ট্র) – শূন্য অ্যাসিস্ট, ৭৭ মিনিট খেলেছেন
কাই হাভার্টজ (জার্মানি) - শূন্য অ্যাসিস্ট, ১০০ মিনিট খেলেছেন
ইয়াসিন আয়রি (সুইডেন) - শূন্য অ্যাসিস্ট, ১০০ মিনিট খেলেছেন
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) - শূন্য অ্যাসিস্ট, ১০১ মিনিট খেলেছেন
এলিজাহ জাস্ট (নিউজিল্যান্ড) - শূন্য অ্যাসিস্ট, ১০১ মিনিট খেলেছেন
আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে) - শূন্য অ্যাসিস্ট, ১০৩ মিনিট খেলেছেন
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) - শূন্য অ্যাসিস্ট, ১০৬ মিনিট খেলেছেন
গোল্ডেন বুটের মানদণ্ড
চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় যে খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি গোল করবেন, তাকে অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট দেওয়া হবে। যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করেন, তবে অ্যাসিস্টের সংখ্যা (ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সদস্যদের দ্বারা নির্ধারিত) সিদ্ধান্তমূলক বলে গণ্য হবে।
অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়ার পরেও যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমতায় থাকেন, তবে টুর্নামেন্টে মোট খেলার সময় (মিনিট) বিবেচনা করা হবে, যেখানে কম সময় খেলা খেলোয়াড়কে তালিকায় প্রথম স্থান দেওয়া হবে।
এফএইচএম

