অভিভিয়ের জিরুডকে টপকে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই ফ্রান্স ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে ফরাসি অধিনায়কের পা থেকে আসে জোড়া গোল। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে দেশের হয়ে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৫৮টি।
তবে ফরাসি এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকার ক্ষুধা যেন এখানেই শেষ নয়, ম্যাচ শেষে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- তার পরবর্তী লক্ষ্য এবার লিওনেল মেসির বিশ্বকাপের সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া।
২০০৬ ও ১৯৯৮ সালের কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে নতুন এক মহাকাব্য লেখেন এমবাপ্পে। সেনেগালের রক্ষণভাগকে চূর্ণ করে জোড়া গোল করার পর তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮-তে, যা অলিভিয়ের জিরুডের (৫৭ গোল) রেকর্ডকে ছাড়িয়ে তাকে এককভাবে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসিয়েছে।
এই ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা এমবাপ্পেকে ‘৫৮’ নম্বর লেখা একটি বিশেষ জার্সি উপহার দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফরাসি অধিনায়ক লিখেছেন, ‘৫৮ গোল। আমাদের জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারাটা এক বিশাল গর্বের বিষয়, যে দেশে এত এত মহান ফুটবলার খেলে গেছেন। প্রথম দিন থেকে চিরন্তন আস্থা রাখার জন্য আমার সব সতীর্থ, স্টাফ এবং ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ। আমাদের যাত্রা চলতেই থাকবে, এখনও অনেক কিছু করা বাকি...।’
দেশের রেকর্ড নিজের পকেটে পুরে এমবাপ্পে এবার চোখ রাখছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় রেকর্ডে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে। আর মাত্র ২টি গোল করলেই তিনি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালীন সর্বোচ্চ ১৬ গোলের মহাকাব্যিক রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
বর্তমান ফর্ম এবং বয়সের (২৭ বছর) সমীকরণ বিবেচনায় ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির এই রেকর্ড ভাঙা এমবাপ্পের জন্য এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। হয়তো এই বিশ্বকাপেই মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়বেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এমএমএম/

