মাঠের ৯০ মিনিটে কখনও কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল দাপট দেখায়, আবার কখনও সেই দাপটেই চিড় ধরায় আন্ডারডগরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড শেষ হতেই যেন সেই চিরচেনা সত্যই নতুন করে লিখছে টুর্নামেন্টের গল্প। কাতার-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপে ৪৮ দলের অংশগ্রহণে প্রত্যেকেই খেলেছে একটি করে ম্যাচ। আর সেই এক ম্যাচেই ইউরোপের একাধিক পরাশক্তির হোঁচট বিশ্ব ফুটবলে তৈরি করেছে নতুন আলোচনার ঝড়।
পর্তুগালের তারকা নির্ভর পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ইউরোপীয় জায়ান্টদের আধিপত্য—সবকিছুর ওপরই যেন ধীরে ধীরে প্রশ্নচিহ্ন বসাতে শুরু করেছে কিছু অপ্রত্যাশিত ফলাফল। নিচে সেই প্রথম রাউন্ডের চারটি ম্যাচ, যেখানে ফেবারিটদের হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছে আন্ডারডগরা—
ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামা স্পেনের সামনে কেপ ভার্দে ছিল তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ। কিন্তু বাস্তবতা বলল ভিন্ন কথা। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে স্পেন আক্রমণ করলেও কেপ ভার্দের রক্ষণ ছিল অবিচল। আর সেই রক্ষণদুর্গের সবচেয়ে বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ফিরিয়ে দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ম্যাচের নীরব নায়ক। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে কাগজে-কলমে স্পষ্ট ফেবারিট ছিল সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই সেই ছাপও স্পষ্ট ছিল। ১৭ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর পেনাল্টি গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউরোপীয় দলটি। প্রথমার্ধে দাপট দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হওয়াটাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিটে) সুইস রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন কাতারের মিরো মুহেইম। ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামা বেলজিয়ামের জন্য ছিল এক কঠিন বাস্তবতার পরীক্ষা। শুরু থেকেই গতি ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আফ্রিকান দলটি। ২০ মিনিটে এরমান আশুরের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় মিশর। প্রথমার্ধে আরও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৫ মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় ম্যাচে ফেরে বেলজিয়াম। মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় আসে স্কোরলাইন। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হলেও বেলজিয়ামের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
পর্তুগালের শুরুটা ছিল একেবারে নিখুঁত। মাত্র ৬ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। মনে হচ্ছিল বড় জয়ের দিকে এগোচ্ছে রোনালদো-নির্ভর দলটি। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। সেই সময় ইয়োয়ান উইসার গোল ম্যাচে ফিরিয়ে আনে ডিআর কঙ্গোকে। দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগাল চাপ বাড়ালেও রক্ষণভাগে অটল থাকে আফ্রিকান দলটি। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগালকে।
এইচজেএস

