চলতি বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ভীষণ ক্ষুব্ধ ইরান ফুটবল ফেডারেশন। এই ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তারা তাদের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নিয়েছে। সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাকি তিনটি ম্যাচ খেলবে তারা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ির কারণে ম্যাচের আগের দিন গিয়ে ম্যাচ শেষেই চলে আসতে হয়েছে তাদের। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ইরানের ড্র হওয়া উদ্বোধনী ম্যাচেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
কিন্তু ইরান চাইছে, প্রত্যেক ম্যাচের দুই দিন আগে তারা আয়োজক শহরে পৌঁছাবে এবং ম্যাচের একদিন পর তারা বেস ক্যাম্পে ফিরবে। তাতে করে কৌশলগত ও শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া যেত। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাদের সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
আগামী ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরানের পরের মাচ। শেষ ম্যাচ ২৭ জুন সিয়াটলে, প্রতিপক্ষ মিসর। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও ভ্রমণে একই ধরনের কড়াকড়ি থাকছে। তাদের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ‘ইরানের দ্বিতীয় ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যেহেতু লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় খেলাটি হবে, তাই ইরান ফুটবল ফেডারেশন অনুরোধ করেছিল যেন দলকে ম্যাচের দুই দিন আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।’
তারা আরও বলেছে, ‘এর উদ্দেশ্য ছিল খেলোয়াড়দের ম্যাচের পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া, তাদের শেষ অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করা এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত টেকনিক্যাল বা কৌশলগত কারণ তুলে ধরা সত্ত্বেও তাদের সেই অনুরোধ আরও একবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ফেডারেশন যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করবে এবং ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিকভাবে শান্তি চুক্তিতে সই করলেও হোয়াইট হাউজ ফিফা টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক এন্ড্রু জিউলিয়ানি বলেছেন, ইরানকে আগেই এমন পরিস্থিতির কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এফএইচএম

