২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্পেন-জাপান ম্যাচের কথা মনে আছে? যেখানে লাইন প্রায় অতিক্রম করে যাওয়া বল টেনে এনে ক্রসিংয়ে গোল করেছিল সামুরাই ব্লুরা। সেই গোলে তারা স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে হারায় এবং গ্রুপপর্বেই বিদায় হয় জার্মানির। এবার প্রায় একই স্মৃতি ফিরল জাপান-তিউনিসিয়ার ম্যাচে। যেখানে মিলিমিটার দূরত্বের জন্য গোল পেল না ৪-০ ব্যবধানে জয়ী জাপান।
গোললাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া ওই সিদ্ধান্ত অনেক সমর্থককে চার বছর আগের একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যখন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আজকের ম্যাচে যখন ১-০ গোলে এগিয়ে জাপান, কর্নার থেকে আসা হেডে বল পোস্টে লেগে গোললাইন বরাবর চলে যায়। তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক আইমেন দাহমেন দুর্দান্তভাবে সেটি ঠেকান। বলটি গোললাইনের খুব কাছাকাছি চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত গোল হয়নি।
— (@huoshan007) June 21, 2026
গোললাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা হয় বল পুরোপুরি গোললাইন অতিক্রম করেছিল কি না। প্রযুক্তি জানায়, বলের পুরোটা গোললাইন পার হয়নি। এবার ভিএআর প্রয়োজন হয়নি, কারণ গোললাইন প্রযুক্তি বলের ভেতরে থাকা চিপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া জাপান শেষপর্যন্ত ৪-০ গোলে জয় পাওয়ায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েনি।
তবে ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে জাপান এমনই এক গোললাইন বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল, যে ফলাফলের কারণে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের ৫১তম মিনিটে জাপান মনে করেছিল তারা দ্বিতীয় গোল করেছে। কাওরু মিতোমা গোললাইন থেকে বলটি কাটব্যাক করলে আও তানাকা সেটি জালে পাঠান। কিন্তু মাঠের রেফারি বল মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল দাবি করে গোল বাতিল করেন।
পরে ভিএআর জানায়– সেটি গোল, কারণ বল তখনও মাঠের মধ্যে ছিল। গোললাইন ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যায়, কাওরু মিতোমা কোনোভাবে বলটি মাঠে ধরে রেখেছিলেন এবং সেখান থেকেই পাওয়া বলে তানাকা গোল করেন। মেক্সিকোর ভিএআর কর্মকর্তা ফার্নান্দো গুয়েরেরো মাঠের সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত বদলাতে হলে তাকে নিশ্চিত প্রমাণ পেতে হতো যে বলের কোনো অংশ গোললাইনের ওপর ছিল।
সেখানে দেখা হয়েছিল– শুধু বলের সঙ্গে মাটির স্পর্শই নয়, বলের বাঁকানো অংশের খুব সামান্যটুকুও লাইনের ওপর থাকলে সেটিকে মাঠের ভেতরে ধরা হয়। বল মাঠের বাইরে গিয়েছিল কি না সেটি নির্ধারণে ফিফার নতুন বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গোললাইন ক্যামেরার ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু টেলিভিশন সম্প্রচারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে অনুমান করতে বাধ্য হয়েছিল যে কোন প্রমাণের ভিত্তিতে গোলটি দেওয়া হয়েছে।
— FIFA (@FIFAcom) December 2, 2022
যদিও ফিফার পক্ষ থেকে দর্শকদের জন্য পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা ভিএআর ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। ঘটনার পরও অনেকক্ষণ পর্যন্ত এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি যে মিতোমা বলটি লাইনে রেখেছিলেন কি না। যদিও গোললাইন ক্যামেরায় সেটি দেখা গিয়েছিল। সমস্যার বিষয়– দর্শকরা তখন সেই দৃশ্য পাননি। ভিএআরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাঝে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি ওই বিশ্বকাপে আরও স্পষ্ট হয়।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যেখানে ভিএআর পর্যালোচনার সময় সম্প্রচারকারীদের ফুটেজ দেওয়া হয়, সেখানে ফিফা পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। ভিএআর–কে সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য করতে হলে এই স্বচ্ছতা অনেক বাড়াতে হবে। ঘটনার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ফিফা শেষ পর্যন্ত সেই গোললাইন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল প্রকাশ করে, যার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি ঘটনার সময়ই প্রকাশ করা যেত বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।
এএইচএস

