বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই আর গ্যালারির উন্মাদনা নয়। এর রেশ ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে শহরে, দেশ থেকে দেশে। বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশে সেই মাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় সময় ১৭ জুন দুপুরে নিউইয়র্ক এসে পৌঁছাই। আমেরিকার সবচেয়ে ব্যস্ত ও জনবহুল শহরের একটি। বিমানবন্দরে বিশ্বকাপের একটি বোর্ড ছিল। সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আবাসস্থল ব্রায়ারউডের পথে রওনা। ত্রিশ মিনিটের ট্যাক্সি ভ্রমণে বিশ্বকাপের কোনো বোর্ড বা চিহ্ন দেখা যায়নি।

টুর্নামেন্ট বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা কাভার করতে এসে সাংবাদিকদের প্রথম কাজ অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহ করা। ১৭ জুন বিকেল হয়ে যাওয়ায় পরের দিন নিউজার্সির উদ্দেশ্যে রওনা। মেট্রোরেল, বাসে করে এক ঘণ্টার পথেও বিশ্বকাপের বোর্ড বা বিশেষ কোনো চিহ্ন চোখে পড়েনি। সুবিশাল নিউজার্সি স্টেডিয়ামের ২-৩ কিলোমিটার আগে খানিকটা বিশ্বকাপ আবহ রয়েছে। আর নিউজার্সি স্টেডিয়াম ঘিরে বেশ কিছু ব্র্যান্ডিং আছে।
নিউইয়র্ক সিটির মধ্যে ব্যস্ত এলাকা ম্যানহাটন, টাইম স্কয়ার। এই অঞ্চলগুলোতে অনেকটা বিশ্বকাপের উত্তেজনা পাওয়া যায়। মানুষের আড্ডা ও আলোচনার অনুষঙ্গ বিশ্বকাপ। এই এলাকাগুলোতে বিভিন্ন দেশের জার্সি পরা মানুষদেরও দেখা যায়। আর্জেন্টিনা ফাইনালে না উঠলে নিউইয়র্কে আসার সম্ভাবনা নেই, তাই তুলনামূলক আর্জেন্টিনা থেকে আগত ব্যক্তি নিউইয়র্কে খানিকটা কম। ব্রাজিলের বেস ক্যাম্প নিউইয়র্ক হওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টার সংখ্যাও বেশি।

১৯ জুন ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচ ফিলাডেলফিয়ায়। নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেলফিয়ার দূরত্ব ১৫০ মাইলের কাছাকাছি। সাধারণত বাস ভাড়া ২৫-৩০ ডলার আর সময় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। বিশ্বকাপ ও ব্রাজিলের ম্যাচের জন্য টিকিট সংকট আর সময় লেগেছে দ্বিগুণ। নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেলফিয়া চার-পাঁচ ঘণ্টা ভ্রমণে মহাসড়ক কিংবা সরু রাস্তা কোথাও কোনো বিলবোর্ড দেখা যায়নি। বোঝার উপায় নেই বিশ্বকাপের ভেন্যুর শহর। নিউইয়র্ক শহরের নাগরিক জীবন অত্যন্ত ব্যস্ততাপুর্ণ। সেই তুলনায় ফিলাডেলফিয়ার ব্যস্ততা খানিকটা কম লেগেছে।
নিউজার্সির মতো ফিলাডেলফিয়া লিংকন স্টেডিয়াম অঞ্চলে অবশ্য কিছু সাজসজ্জা রয়েছে। স্টেডিয়াম এলাকায় দর্শকদের প্রতিক্রিয়া, আরও অনেক বিষয় পর্যবেক্ষণের চেয়ে সাংবাদিকদের তাড়া থাকে প্রথমে মিডিয়া সেন্টারে প্রবেশ। ফিলাডেলফিয়ায় মিডিয়া সেন্টার খুঁজে পেতে এক ঘণ্টা লেগেছে। অন্য ভেন্যুতে কেমন অভিজ্ঞতা হয় সেটাই দেখার।
এজেড/এফএইচএম

