১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে এই বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনোনেস। মেক্সিকো সিটির সেই উদ্বোধনী ম্যাচের পর থেকেই গোলের বন্যা বয়ে চলেছে।
১৪ জুন হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির ৭-১ ব্যবধানের বিধ্বংসী জয় থেকে শুরু করে চার দিন পর ভ্যাঙ্কুভারে কাতারের বিপক্ষে কানাডার ৬-০ গোলের দাপুটে জয়। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে যেন গোলের ধস নেমেছে।
এত বেশি গোল হওয়ার পেছনে অন্যতম একটি কারণ হতে পারে ম্যাচে ব্যবহৃত অ্যাডিডাসের ‘ট্রিওন্ডা’ বলটি। মনে হচ্ছে, বাতাসে বলটি গতিপথের মারপ্যাঁচে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন গোলরক্ষককে বোকা বানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই তা পরিষ্কার দেখা গেছে। যখন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে তার ম্যাচের দ্বিতীয় ও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দূরপাল্লার গোলটি করেন। ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে তিনি সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মঁদিকে পরাস্ত করেছিলেন।
প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলোর মধ্যে ২২ গজেরও বেশি দূর থেকে হওয়া ৫টি দুর্দান্ত গোলের একটি ছিল এটি। এর মধ্যে দুটি গোল করেছেন সুইডেনের ইয়াসিন আয়রি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে যথাক্রমে ২৪.৮ গজ ও ২৪.৩ গজ দূর থেকে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কনর মেটকাফের (২৫.৬ গজ) ও ব্রাজিলের বিপক্ষে ইসমায়েল সাইবারির (২৪.৭ গজ) গোল দুটি এই তালিকার শীর্ষ পাঁচে আছে।
বিবিসি স্পোর্টের সঙ্গে আলাপে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট আভাস দিয়েছেন যে, গোলরক্ষকেরা বলটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। ১৭ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার মার্টিন বাতুরিনা যখন সমতাসূচক গোল করেন, তখন হার্ট লক্ষ্য করেছিলেন যে বলটি জর্ডান পিকফোর্ডের দিকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়েছিল।
পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে ইতিমধ্যেই ১০টিরও বেশি গোল হয়ে গেছে। আর গোলরক্ষকেরা বাতাসে ঘুরপাক খাওয়া শটগুলো গ্রিপ করতে গিয়ে হাতছাড়া করায় সহজ ট্যাপ-ইন গোলের সুযোগ তো আছেই।
বিশ্বকাপে বিবিসি স্পোর্টের হয়ে কাজ করা ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসন বলেন, ‘দুই-একবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে এই ফুটবলটি ঠিক যেভাবে আচরণ করার কথা, সেভাবে করেনি। বিষয়টি অবশ্যই নজরে রাখার মতো।’
বিশ্বকাপের বল নিয়ে সমস্যা সৃষ্টির ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘জাবুলানি’ বলটি বাতাসে আকস্মিক দিক পরিবর্তন, ড্রপ খাওয়া ও ভেসে থাকার জন্য বেশ পরিচিতি পেয়েছিল, যা অনেকগুলো দূরপাল্লার গোলের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করা হয়। সেই টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত মোট ১৪৫টি গোলের মধ্যে ২৬টি গোলই হয়েছিল পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে।
অবশ্য সবাই যে হিমশিম খাচ্ছেন তা কিন্তু নয়। বরং তিন গোলকিপার তো প্রতিপক্ষকেই নাকানিচুবানি খাইয়েছেন। সৌদি আরবের কিপার মোহাম্মেদ আল ওয়াইজ উরুগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ৯টি সেভ করেন। তারপর কেপ ভার্দের ভোজিনহা সাত সেভে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য স্কোরে রেখে চমক দেখান। ইকুয়েডরের বিপক্ষে কুরাসাও স্টপার এলয় রুম তো রেকর্ডই ভেঙে দিলেন ৯০ মিনিটে ১৫টি সেভ করে। তাদেরকে ব্যতিক্রম বলাই যায়, কারণ ৬৮ বছরের মধ্যে এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে (৩৩) ম্যাচে একশ গোল হয়ে গেছে।
এফএইচএম

