বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার অভিযানে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় ম্যাচে আজ (সোমবার) তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। গ্রুপপর্বে আরেক ম্যাচ বাকি থাকলেও এখন থেকেই দ্বিতীয় রাউন্ড বা রাউন্ড অব ৩২–এর হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। যেখানে মেসি-আলভারেজরা খেলবে ‘এইচ’ গ্রুপের দলের সঙ্গে।
গতকাল (রোববার) সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে স্পেন ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে। সেই গ্রুপের আরেক ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করায় ২ ম্যাচ শেষে উরুগুয়ের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। কেপ ভার্দেরও সমান ২ পয়েন্ট, আর এশিয়ার প্রতিনিধি সৌদি আরব ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে রয়েছে।
স্পেন-উরুগুয়ের ‘এইচ’ গ্রুপের দিকে বিশেষ নজর রাখছে আর্জেন্টিনা। কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা যদি নিজেদের ‘জে’ গ্রুপে প্রথম বা দ্বিতীয় হয়ে শেষ করতে পারে, তাহলে শেষ ৩২–এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এইচ’ গ্রুপের দল। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য থাকবে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকা। অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে জয় পেলেই তাদের সেই অবস্থান নিশ্চিত হবে। সেরকম কিছু না হলেও আরও বেশ কিছু সমীকরণে তারা প্রথম দুইয়ে থেকে পরের পর্বে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, যদি আর্জেন্টিনা নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় হয়, তাহলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ‘ডি’, ‘জি’, ‘এল’, ‘বি’ ও ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষ কোনো দল। আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপের প্রথম দুইয়ের মধ্যে থাকলে, তাদের নজর থাকবে ‘এইচ’ গ্রুপের শেষ দিনের ফলাফলের দিকে। কারণ ওই দিনের ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে তাদের প্রতিপক্ষ। শেষ দিনে মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে-স্পেন এবং কেপ ভার্দে-সৌদি আরব। ম্যাচ দুটি হবে শনিবার ভোর ৬টায়।
যেভাবে নির্ধারিত হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ
আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হলে–
- উরুগুয়ে জিতলে এবং কেপ ভার্দে ড্র বা হারলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
- উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয়েই জিতলে, যারা গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবে তারা হবে দ্বিতীয় এবং আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সেই দল। স্পেন তখন তিনে নেমে যাবে (তবে পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ থাকবে)। বর্তমানে উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে উভয়েরই গোল ব্যবধান ০। গোল ব্যবধান সমান থাকলে বেশি গোল করা দল এগিয়ে থাকবে (বর্তমানে দুই দলেরই গোল +২)। এরপরও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে কম হলুদ কার্ডের কারণে উরুগুয়ে এগিয়ে।
- দুই ম্যাচই ড্র হলে আগের নিয়মেই হিসাব হবে। তবে তখন উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে প্রথম হওয়ার জন্য নয়, দ্বিতীয় হওয়ার জন্য লড়বে।
- কেপ ভার্দে ৪ গোলের কম ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে কেপ ভার্দে। কেপ ভার্দের জয়ের ব্যবধান ৪ গোল হলে, গোলসংখ্যা বা ফেয়ার প্লে– সব হিসাবেই স্পেনের সঙ্গে সমতায় যেতে পারে। আবার কেপ ভার্দে ৪ বা তার বেশি গোলে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন (রানার্সআপ হিসেবে)।
- উরুগুয়ের বিপক্ষে সৌদি আরব জয় পেলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সৌদি আরব।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য গতিপথ
যদি লিওনেল স্কালোনির দল নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করে, তাহলে শেষ ৩২–এ তাদের সামনে আসবে ‘এইচ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল। বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী– শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে প্যারাগুয়ে বা অস্ট্রেলিয়া। পরে ‘ডি’ ও ‘জি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলগুলোর মধ্যকার লড়াই থেকে ইরান বা মিসরের মতো দলের মুখোমুখি হতে পারে তারা।
এক্ষেত্রে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন নকআউট নিয়ম বা অলিম্পিক পদ্ধতির টাইব্রেকিং ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই পয়েন্টে থাকা দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ হবে– মুখোমুখি ম্যাচে বেশি পয়েন্ট, মুখোমুখি ম্যাচে বেশি গোল ব্যবধান, মুখোমুখি ম্যাচে বেশি গোল, পুরো গ্রুপ পর্বের গোল ব্যবধান, গ্রুপ পর্বে মোট বেশি গোল, কম লাল কার্ড, কম হলুদ কার্ড ও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের ভিত্তিতে।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। তারা সম্ভবত কলম্বিয়ার সঙ্গে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিয়ে লড়বে। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপে থাকা সুইজারল্যান্ড বা কানাডাও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে, যেখানে রয়েছে কাতার ও বসনিয়াও।
সেমিফাইনালে স্কালোনির দলের সামনে পড়তে পারে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বা একবারের শিরোপাধারী ইংল্যান্ড। তবে শর্ত হলো, দুই দলকেই নিজেদের গ্রুপে প্রথম হতে হবে।
অন্যদিকে, এই লাইনআপের অপরপ্রান্তে থাকবে ‘ই’, ‘আই’, ‘এফ’, ‘এইচ’ ও ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষ দলগুলো। অর্থাৎ সম্ভাব্য ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার সঙ্গে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন বা বেলজিয়ামের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদি না তারা নিজেদের গ্রুপে প্রথম হয়ে ফাইনালে ওঠে।
এএইচএস

