World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

আনচেলত্তির মন্তব্যের জবাব দিলেন স্কালোনি, বিতর্ক বাড়ল না কমলো?

আনচেলত্তির মন্তব্যের জবাব দিলেন স্কালোনি, বিতর্ক বাড়ল না কমলো?

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে খেলছে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে। সেমিফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ারও সম্ভাবনা কম। তবে লাতিন দুই ‍জায়ান্টের মাঝে এখনই কি কিছুটা উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে? কিছুটা রেশ দেখা গিয়েছিল ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির মন্তব্যে। তবে সেটি বেশি বাড়তে দিলেন না আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি।

মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ব্রাজিল পরের ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে স্বস্তিতে ফিরেছে। বিপরীতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আসরের শুভসূচনা করে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘আলবিসেলেস্তেদের খেলার ধরনে তীব্রতার (ইনটেনসিটি) কমতি রয়েছে।’

পরেই অবশ্য সেই কথার ব্যাখ্যা এবং আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তিনি, ‘আমি এমন অনেক দল দেখেছি যারা ফেভারিট না হয়েও দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। আমার বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপটি হবে ভীষণ হাই-ইনটেনসিটির (তীব্র গতির)। আর্জেন্টিনা যদিও খুব বেশি হাই-ইনটেনসিটির ফুটবল খেলে না, তবে তারা ম্যাচ খুব ভালো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমার মনে হয়, কোনো একক তারকা এবারের বিশ্বকাপ নির্ধারণ করে দেবে না। এটাই আমার ব্যক্তিগত মত।’

এদিকে, আজ (সোমবার) রাত ১১টায় ডালাসে আর্জেন্টিনা নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে। সেখানেই ওঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কোচের প্রসঙ্গ। জবাবে বিতর্ক এড়িয়েছেন স্কালোনি, ‘(আনচেলত্তি) কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা আমি বুঝতে পেরেছি। তিনি কথাটি ইতিবাচক অর্থেই বলেছেন। নিশ্চিতভাবেই তিনি খারাপ কিছু বলেননি। আসলে সমস্যা হলো, তিনি যখন কথা বলেন তখন স্প্যানিশ, ইতালিয়ান আর পর্তুগিজ ভাষার একটা মিশ্রণ তৈরি হয়। তিনি যদি নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতেন, তাহলে হয়তো আমরা সবাই তার কথা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারতাম।’

‘আমি তার মন্তব্যটিকে সমালোচনা নয়, বরং একটা প্রশংসা হিসেবেই দেখছি এবং এই ব্যাপারে আমি প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিত’, আরও যোগ করেন আর্জেন্টাইন কোচ। পরে আবার ইনটেনসিটি প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘তীব্রতা বলতে আমরা কী বুঝি, তা আমাদের দেখতে হবে। আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপে যখন আপনার কাছে বল থাকবে না, তখন আপনাকে চেষ্টা করতে হবে যাতে আপনি আঘাত না পান। আমরা দেখছি যে খুব বেশি দল হাই-প্রেসিং বা ওয়ান-অন-ওয়ান করছে না।’

Image

দলগুলো প্রেসিংয়ের মাত্রা কমিয়ে দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন মেসিদের কোচ, ‘প্রথমত প্রচণ্ড গরমের কারণে এবং দ্বিতীয়ত খেলোয়াড়দের ফিটনেসের ঘাটতির কারণে। তাই তারা মিডফিল্ডে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এবং আমার মনে হয় সেখানেই অনেক ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখছি যে তিনজন ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলা দল জিতছে, পাঁচজন নিয়ে রক্ষণ করা দল বা চারজন নিয়ে রক্ষণ করা দলও জিতছে। এ কারণেই আমি বলছি যে, আমার মতে বিশ্বকাপ কেমন যাবে তা বিশ্লেষণ করার জন্য সময়টা এখনও অনেক তাড়াতাড়ি। কিন্তু আমার কোনো সন্দেহ নেই যে বড় দলগুলো টিকে থাকবেই, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’

এএইচএস