নিজের প্রথম দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল এবং দ্বিতীয় আসরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত আরও কিছু কীর্তি ইতোমধ্যে তিনি দখলে নিয়েছেন। তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নেমে যেন আরও উজ্জ্বল ফ্রান্স অধিনায়ক। ১৬ ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন।
২০১৪ বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন জার্মান কিংবদন্তি ক্লোসা। এর আগে ফিফার এই সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার চার আসরে ২৪ ম্যাচ খেলে তিনি ১৬টি গোল করেন। যার সুবাদে পরবর্তী ১২ বছর বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ক্লোসাকে। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি ছুঁয়েছিলেন সেই রেকর্ড, গতকাল আর্জেন্টাইন মহাতারকা ১৮তম গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান।
এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করেন এমবাপে। এর সঙ্গে সঙ্গেই ক্লোসার সমান ১৬টি গোল হয়ে গেল এই ফরাসি অধিনায়কেরও। অর্থাৎ, চলতি বিশ্বকাপেই মেসি-এমবাপের এই শীর্ষস্থান দখলের প্রতিযোগিতা দেখতে রোমাঞ্চকর অপেক্ষায় কাটবে ফুটবলভক্তদের।
বিশ্বকাপের টানা তিন বা তার বেশি ম্যাচে ন্যূনতম দুটি গোল করা চতুর্থ পুরুষ ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন এমবাপে। এর আগে একই রেকর্ড গড়েছিলেন ১৯৫৪ সালে স্যান্ডর কোচিস (৪ ম্যাচ), ১৯৩০ সালে গুইয়ের্মো স্তাবিলে এবং ২০২২-২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপে ষষ্ঠবার নির্দিষ্ট ম্যাচে একাধিক গোলের রেকর্ডও রয়েছে এমবাপের। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি জোড়া গোল ও একটি হ্যাটট্রিক। ফিফার এই মেগা ইভেন্টে এমবাপের সর্বশেষ তিনটি গোলের মধ্যে দুটি এসেছে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে। অথচ প্রথম ১৩টি বিশ্বকাপ গোলের মধ্যে বক্সের বাইরে থেকে এসেছিল মাত্র একটি।
এদিকে, গতকাল আন্তর্জাতক ক্যারিয়ারের ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি অধিনায়ক। ফ্রান্সের হয়ে শততম মাইলফলক ম্যাচ খেলায় তিনি (২৭ বছর ১৮৪ দিন) সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় এবংইউরোপের চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৬০। জাতীয় দলে শততম ম্যাচের পর গোলসংখ্যায় তিনি মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও ছাড়িয়ে গেলেন।
শততম ম্যাচের পর গোলের সংখ্যায় সবমিলিয়ে অবশ্য এমবাপের অবস্থান অষ্টম। তার সামনে আছেন– ইরানের আলি দাই (৭৬), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলি মাবখুত (৭৫), ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন (৬৮), বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু (৬৭), ভারতের সুনীল ছেত্রী (৬৬), সার্বিয়ার আলেক্সান্ডার মিত্রভিচ (৬৫), ব্রাজিলের নেইমার জুনিয়র (৬১)। ৬০ গোল করে তাদের পরই অবস্থান এমবাপের। শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষে মেসি ৪৬ ও রোনালদো ৩৭ গোল করেছিলেন।
এএইচএস

