আবারও মেসিময় এক রাতের স্বাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়াকে জোড়া গোলে হারিয়ে দলকে নকআউটে নিয়ে গেলেন অধিনায়ক মেসি। যদিও শুরুটা ছিল হতাশার। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিসের পর আরও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর প্রত্যাবর্তনটাও করলেন দুর্দান্ত। আর্জেন্টিনার দুই গোলের দুটিই এসেছে মেসির পা থেকে।
ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে দ্বিতীয় গোলের পর একটি দৃশ্য রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে। সাধারণত গোলের উদযাপনে সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরা থাকেন। কিন্তু মেসি উদযাপন করলেন কি না এক সাংবাদিকের সঙ্গে! গোল করার পর কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠার আগে হঠাৎই তার সামনে পড়ে যান এক অপ্রত্যাশিত ব্যক্তি—আর্জেন্টিনার টেলিভিশন চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক হোয়াকিন ব্রুনো।
— ESPN FC (@ESPNFC) June 22, 2026
মাঠের একেবারে প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্রুনো। কি সৌভাগ্য তার! দ্বিতীয় গোলের পর ঠিক সেই জায়গাতেই গিয়ে পৌঁছান মেসি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার সঙ্গে একই ফ্রেমে উদযাপনের অংশ হয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে প্রথমে নিজেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ব্রুনো। মেসি গোলের উচ্ছ্বাসে সামনে এগিয়ে আসতেই সাংবাদিকের সঙ্গে চোখাচোখি হয় তার। মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
— Motivaciones Fútbol (@MotivacionesF) June 22, 2026
পরে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ওই সাংবাদিক বলছিলেন, এখনও যেন হাত কাঁপছে। মনে হচ্ছে ঘটনার ঘোরটা পুরোপুরি কাটেনি। ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে সেই মুহূর্তটা এলো। প্রথমে হুলিয়ান আলভারেজের শট ঠেকালেন গোলরক্ষক শ্লাগার। ফিরতি বলে মেসির চেষ্টা আবারও রুখে দিলেন তিনি ও ডিফেন্ডাররা। কিন্তু তৃতীয়বার আর ভুল করলেন না মেসি। বল জালে জড়াতেই আমি যেন পাগলের মতো চিৎকার করে উঠলাম। সাংবাদিক পরিচয় ভুলে তখন আমি কেবল আরেকজন আর্জেন্টাইন সমর্থক।
ঠিক তখনই দেখলাম মেসি আমার দিকেই এগিয়ে আসছেন। আমি তখনও উচ্ছ্বাসে চিৎকার করছি। হঠাৎ তিনি তাকালেন, কাছে এলেন, আর আমাকে একটি হাই-ফাইভ দিলেন। একজন আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমী, একজন মেসিভক্তের কাছে সেই অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মুহূর্ত, এই ছবিটা আমি বয়ে বেড়াব। ঘটনার পাঁচ মিনিটও পার হয়নি, এরই মধ্যে ফোন ভরে যায় বন্ধুদের পাঠানো সেই ছবিতে।
এফআই

