ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস কিংবা বার্নার্দো সিলভাদের মতো তারকাদের নিয়ে যখন ফুটবল বিশ্ব মেতে আছে, তখন পর্তুগালের ডাগআউটে আড়ালে থেকে নীরবে ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন এক স্কটিশ। তিনি হলেন অস্টিন মাকফি- আধুনিক পুটবলের অন্যতম সেরা সেট পিস স্পেশালিস্ট।
রবার্তো মার্তিনেসের পর্তুগাল দলে ম্যাকফি যেন এক অদৃশ্য জাদুকর, যিনি সেট-পিসকে সাধারণ কোনো কৌশল থেকে রূপান্তরিত করেছেন একদম ফলিত বিজ্ঞানে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যান্থনি ব্যারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পর্তুগালের কোচিং স্টাফে যোগ দেন ম্যাকফি। জাতীয় দলে ক্লাবের মতো প্রতিদিন অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। এই সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে তিনি পর্তুগাল শিবিরে নিয়ে আসেন ‘ট্র্যাকম্যান’ সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারে বলের গতি, ট্রাজেক্টরি (গতিপথ), উচ্চতা এবং স্পিন। এর সুফলও হাতেনাতে পায় পর্তুগাল।
উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কিংবা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়- প্রতিটি গোলের পেছনেই ছিল ম্যাকফির নিঁখুত সেট পিস পরিকল্পনা।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে আসার আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হাত ভাগ্য বদলে দিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এই স্কটিশ। ২০২১ সালে ডিন স্মিথের হাত ধরে ভিলায় এলেও দলটির বর্তমান হাই-প্রোফাইল কোচ উনাই এমেরির অধীনে তিনি হয়ে ওঠেন অপরিহার্য। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের মধ্যে সেট-পিস থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল করার রেকর্ড গড়েছিল অ্যাস্টন ভিলা।
খুঁটিনাটি বিষয়ে তার নজরদারি এতটাই তীব্র যে, একবার নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ম্যাচের পর ভিডিও অ্যানালাইসিস করে তিনি আবিষ্কার করেন- প্রিমিয়ার লিগের রেফারিরা নিয়মমাফিক দূরত্বের চেয়ে কিছুটা কাছে রক্ষণভাগের দেয়াল দাঁড় করাচ্ছেন। এরপর থেকেই ভিলার ফ্রি-কিক নেওয়ার প্রোটোকল বদলে দেন তিনি।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে মাঠ মাতাবেন রোনালদোরা, আর ডাগআউটে বসে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দেওয়ার চাবিকাঠি ঘুরিয়ে যাবেন এই স্কটিশ মাস্টারমাইন্ড। প্রতিপক্ষের জন্য এই স্কটিশ কোচই এখন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
এমএমএম/

