World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

রোমারিও’র কলাম

আত্মা পরিশুদ্ধ করেছে ব্রাজিলের খেলা

আত্মা পরিশুদ্ধ করেছে ব্রাজিলের খেলা

ভক্ত-সমর্থক ও সাংবাদিকদের চাপের মুখে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান রোমারিও। ১৯৯৪ সালের সেই আসরে গ্রুপের তিন ম্যাচেই গোল করেন তিনি। বেবেতোর সঙ্গে তার জুটিতে সেলেসাওদের ধারালো আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালেও গোল করেন। তারপর ফাইনালে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে রেকর্ড চতুর্থবার চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

সাবেক এই ফরোয়ার্ড এখন দেশের রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব। তবে সেলেসাওদের খেলা ঠিকই দেখছেন পাখির চোখ করে। আজ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয় তাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রথম দুই ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এই ব্রাজিলকে দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি, নিজের অনুভূতি কলাম আকারে প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবা-তে—

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের খেলা ছিল দুর্দান্ত। আমরা শুরু থেকে আমাদের মতো করে খেলতে পেরেছি এবং দল দেখিয়েছে, মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দুর্বল পারফরম্যান্সের পর বলার মতো উন্নতি করে চলেছে দল।

নকআউটে যাওয়ার আগে মূলত এটা মনোবল বাড়ানোর ম্যাচ ছিল। এটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, প্রত্যেক ম্যাচে উন্নতি করে যাওয়া। বিশ্বকাপ ইতিহাস বলে যে, সচরাচর তারা বিজয়ী হয় না, যারা প্রথম ম্যাচ থেকে দাপট দেখায়, বরং তারাই হয় যারা প্রতিযোগিতা জুড়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

ভিনি জুনিয়র আকাশে উড়ছে। চার গোল, কোনো সন্দেহ নেই যে সে এই মুহূর্তে আমাদের তারকা খেলোয়াড়, বিশেষ করে রাফিনিয়া ইনজুরিতে পড়ার পর। সে দায়িত্ব নিয়েছে, যেমনটা সেরা খেলোয়াড়দের নেওয়া উচিত। সে গোল করার সহজাত ক্ষমতা দেখিয়েছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সে আমাদের প্রধান খেলোয়াড়।

আরও কয়েকজনের নাম বলতেই হয়। আলিসন দারুণ তিনটি সেভ করেছে। দেখিয়েছে, যখন দরকার পড়ে তখন আমাদের পেছনে আছে একটি দেয়াল। অনেক সমালোচনার পর সে অনেক কিছু সামলে নিয়েছে এবং আমাদের গোলপোস্টের নিচে দারুণ নিরাপত্তাব্যুহ তৈরি করেছে।

আরেকজন দুর্দান্ত খেলেছে, ব্রুনো গিমারায়েস। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছে সে, রক্ষণও ভালোভাবে সামলেছে এবং সমান দক্ষতায় আক্রমণে গেছে। ম্যাথিউস কুনহাকে দিয়ে তো সে-ই তৃতীয় গোল করাল।

এখন পর্যন্ত দানিলো তার সেরা ম্যাচ ছিল। রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়েছে এবং সামনে এগিয়েও ভালো খেলেছে, সে প্রমাণ করেছে, ওয়েসলির রেখে যাওয়া জায়গায় সে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। রাইট ব্যাক পজিশন তার। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে রায়ানকে বাজি ধরছি আমি। আবারও সে তার সামর্থ্য দেখিয়েছে, দুর্ভাগ্য যে গোলকিপার তার ওই শটটি ঠেকিয়ে দিয়েছিল, যেটা কোণা দিয়ে ঢুকতে যাচ্ছিল। তারা দুজন আমাদের ডানদিকে নতুন করে গতি বাড়িয়েছে, যেখানে বেশ ঘাটতি ছিল।

এই বিশ্বকাপে নেইমার প্রথমবার খেলল, আমি খুব খুশি। অনেক উদ্যম নিয়ে সে মাঠে নেমেছিল, এবং তরুণ খেলোয়াড় এন্দ্রিকের পাশে খেলেছে। প্রত্যেকেই জানে সে একজন নেতা এবং কৌশলগতভাবে দলের একটি স্তম্ভ। দলে তার গুরুত্ব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। অবশ্যই সে তার সেরা ফুটবল খেলার সময় পায়নি এখনো। এখনো ম্যাচ ফিটনেসে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু সে ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে সে ভালো শারীরিক অবস্থায় আছে। দলের সঙ্গে সেও নিশ্চয় উন্নতি করবে।

আনচেলত্তির জন্য হাততালি। সে স্পষ্টভাবে তার দলকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। সঠিক লাইনআপ পেয়েছেন তিনি এবং প্রথমবারের মতো পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একই লাইনআপের পুনরাবৃত্তির সুযোগ পাবেন। যে কোনো ভালো ইতালিয়ানের মতো তিনি খুবই আশাবাদী একজন। তিনি তার হাতে থাকা খেলোয়াড়দের ভালো করে চেনেন, যারা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ফিট থাকতে পারবে। তিনি চিৎকার করেন না, কিন্তু তার ব্যক্তিত্বের জন্য সবাই তাকে সম্মান করে। ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের কমান্ডার হওয়ার মতো তার সবকিছু আছে।

স্টেডিয়ামে সবুজ ও হলুদ জার্সিধারী ভক্ত-সমর্থকদের ঢেউ উঠেছিল। অনন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছিল তারা। নিঃসন্দেহে তারাই ছিল দ্বাদশ খেলোয়াড়। ভক্তদের সঙ্গে দলও বেড়ে উঠছে। মায়ামির এই খেলায় গ্যালারি ও মাঠের মধ্যে খাঁটি সম্প্রীতি দেখা গেছে।

এ যেন আত্মা পরিশুদ্ধ করা খেলা। গতকাল ব্রাজিল দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা আসল রূপে ফিরেছে। আনন্দের সঙ্গে খেলেছে, আক্রমণে গেছে, দেখিয়েছে তাদের বুকে কেন পাঁচ তারকা। আমাদের এখনো পাঁচ ম্যাচ হাতে আছে এবং অনেক ধাপ ফেলতে হবে, আর উন্নতি করে যেতে হবে। হয়তো ভালো কিছুর জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। 

এফএইচএম