নিউইয়র্ক অত্যন্ত ব্যস্ত শহর। জীবন-জীবিকার টানে মানুষ সকাল-রাত ছুটে চলছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে নানা দেশের নানা মানুষ এসেছে ব্যস্ত এই শহরে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও রকফেলার সেন্টারে ফিফা মিউজিয়ামে সময় যেন খানিকটা থমকে দাঁড়ায়।
ফিফার স্পন্সর হুন্দাই। তারা নিউইয়র্কে রকফেলার সেন্টারে ফিফা মিউজিয়াম করেছে। যেখানে ১৯৩০ সাল থেকে ২০২২ বিশ্বকাপের নানা ঘটনার স্মৃতি রয়েছে। বিশ্বকাপের প্রতি আসরের পাশাপাশি বর্তমান আসরের ৪৮ দলের জার্সি আলাদাভাবে সজ্জিত আছে। আগত দর্শনার্থীদের বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগও রয়েছে।
নিউইয়র্কে ফিফা মিউজিয়াম পরিদর্শন করতে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এজন্য অবশ্য কোনো খরচ নেই। রেজিস্ট্রেশনের পর মিউজিয়ামে প্রবেশের সময় স্ক্যান হয়। জাদুঘরে যাবার পথে লিফটে ম্যারাডোনার ছবি আঁকা রয়েছে।

১৯৩০ সালে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ দিয়ে এই জাদুঘর শুরু। ১৯৩০-২০২২ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ফলাফল, সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের নাম বেশ সুন্দর করে সজ্জিত। ১৯৩০-২০২২ প্রতি বিশ্বকাপের একটি বিশেষ জিনিস রয়েছে জাদুঘরে। যেমন ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের বল, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার কোচ সিজার মেনেত্তির টি শার্ট, ২০০২ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল স্কোয়াডের সবার স্বাক্ষর সম্বলিত জার্সি। প্রতি বিশ্বকাপেরই একেকটা আলাদা স্মারক রয়েছে।
১৯৩০-২০২২ বিশ্বকাপের খন্ডচিত্রের মাঝে রয়েছে জুলেরিমে ট্রফি। প্রথম দল হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জেতায় যে ট্রফি ব্রাজিল নিজেদের করে নেয়। ঐতিহাসিক ছবির পাশাপাশি রয়েছে ভিজ্যুয়ালও। বিশ্বকাপ ফাইনালে পেলে, ম্যারাডোনা, মেসির অমর কীর্তির ভিডিও ফুটেজ কয়েক মিনিট পর পর প্রদশিত হয়।

ফুটবলাররা বিশ্বকাপের মাঠে লড়েন ট্রফির জন্য। ফিফা জাদুঘরেও ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। এজন্য অবশ্য কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয়। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে মাত্র আটটি দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোন দল কত বার ও কত সালে চ্যাম্পিয়ন সেটারও সুন্দর গ্রাফিক বর্ণনা রয়েছে।
নিউইয়র্কে রকফেলার সেন্টারে ফিফা মিউজিয়াম দেখতে সকাল থেকে ভিড় করেন ফুটবলপ্রেমীরা। ইকুয়েডর থেকে বিশ্বকাপ দেখতে নিউইয়র্কে এসেছেন এক দম্পতি। তারা বলেন, 'এ রকম ইতিহাস দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ সংশ্লিষ্টদের। বর্তমানের সাথে অতীতও জানা প্রয়োজন।'
এজেড/এইচজেএস

