বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার আসর বিশ্বকাপ। ফিফার এই মেগা ইভেন্ট শুরুর অনেক আগে থেকেই টুর্নামেন্টের ফেভারিট কারা সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সেদিক থেকে কিছুটা দেরিতেই ওই দলে যোগ দিলেন পুনরায় রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার হয়ে ফেরা হোসে মরিনিয়ো। তার মতে– ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল এবার শিরোপার বড় দাবিদার!
ইউটিউব চ্যানেল ‘বিস্ট মোড অন’-এর পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ড। বিশ্বকাপ ফেভারিটের আলোচনায় স্বদেশের পক্ষ নিয়ে মরিনিয়ো বলেন, পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্যই তাদের (বিশ্বকাপ জেতা) সম্ভব। তবে তারা একা নয়। আরও কয়েকটি শক্তিশালী দল রয়েছে।
তবে ইংল্যান্ডকে নাকি সব সময়ই শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে দেখে আসছেন মরিনিয়ো, ‘আমি সব সময়ই বলি, ইংল্যান্ড (ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থাকবে)। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, জন টেরি, রিও ফার্দিনান্দ, ডেভিড বেকহ্যাম–এর প্রজন্ম থেকে আমি এ কথাই বলে আসছি। এরপরও তারা পারেনি, কিন্তু আমি এখনও বলি– ইংল্যান্ড পারবে।’
কেন ইংল্যান্ডের এত সম্ভাবনা সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ‘স্পেশাল-ওয়ান’খ্যাত এই কোচ, ‘আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছিল। ক্রিস্টাল প্যালেস কনফারেন্স লিগ জিতেছে। ইউরোপা লিগ জিতেছে অ্যাস্টন ভিলা। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি বাদ দিলে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডেই খেলছে।’
অতীতে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়ার মতো ছোট ছোট বিষয়ই ইংল্যান্ডকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে দাবি মরিনিয়োর। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, অন্য যে কোনো দলের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপর গণমাধ্যমের চাপ বেশি। সেই চাপ সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যাশা ও দায়িত্বের সেই চাপ তারা অনেক সময় সামলাতে পারেনি। তবে তাদের সব সময়ই ভালো কোচ ছিল, এখনও আছে। তাই আমি এখনও মনে করি, তারা বিশ্বকাপ জিততে পারে।’
এর বাইরে ফ্রান্সের স্কোয়াডে গভীরতা এবং কার্লো আনচেলত্তির অধীন ব্রাজিলেরও সম্ভাবনা দেখেন মরিনিয়ো। তার মতে, ‘ফ্রান্স তিনটি আলাদা দল নিয়ে খেললেও শিরোপার লড়াইয়ে থাকবে। মরক্কোর সঙ্গে ড্রয়ের মতো খারাপ ফলের পরও কার্লো বিচলিত হন না। আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, কার্লো পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। আর পর্তুগালের স্কোয়াডও অসাধারণ।’
স্পেন-আর্জেন্টিনাকে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের বেশিরভাগই অন্যতম ফেভারিট বলে আলোচনা করে আসছেন। তাদের নামও এলো মরিনিয়োর কথায়। অনেকটা মজার সুরে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের দ্রুত বিদায় চাওয়ার কথাও জানান এই কোচ, ‘আমি চাই রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা হেরে যাক এবং ছুটিতে চলে আসুক। কারণ আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগি দিক তারা!’
এএইচএস

