World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

জার্মানদের স্তব্ধ করে ‘হলুদ’ উৎসব

জার্মানদের স্তব্ধ করে ‘হলুদ’ উৎসব

রেফারি টনি পেনসোর ম্যাচ শেষের বাঁশি। নিউজার্সির স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের বাঁধভাঙা উল্লাস। ডাগআউট থেকে কোচিং স্টাফরা ১০০ মিটার স্প্রিন্টের বেগে মাঠে প্রবেশ করলেন। ফুটবলাররাও দিগ্বিদিক ছুটলেন। বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের পরের পর্বে খেলা তখনও (খানিক পরেই নকআউট নিশ্চিত হয়) নানা যদি-কিন্তু’র ঘেরাটোপে থাকলেও চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে তারা যেন বিশ্বকাপ জয়েরই আনন্দে মেতেছে!

জার্মানি বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি। বিশ্বকাপের মঞ্চে তো জার্মানি আরও বেশি শক্তিশালী। খেলায় এক সেকেন্ড বাকি থাকতেও তারা শেষবিন্দু পর্যন্ত লড়ে। তাই ২-১ স্কোরলাইন থাকলেও জার্মান ভক্তদের আশা ছিল আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ইনজুরি সময়ে কিছু একটা ঘটবে। ইকুয়েডর সেরকম কিছু ঘটতে দেয়নি। 

ইকুয়েডর জার্মানির বিপক্ষে এর আগে দু’বার মুখোমুখি হয়েছিল। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে ৩-০ গোলে জিতেছিল স্বাগতিকরা। সাত বছর পর এক প্রীতি ম্যাচে জার্মানির জয় ছিল ৪-২ গোলে। এক যুগ পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেক দেখায় জার্মানরা হেরে মাঠ ছাড়ল। এই হারে জার্মানির কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ ফিফার হেড টু হেড পলিসিতে আইভরি কোস্টকে হারানোর পরই জার্মানির গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হয়েছে। আজকের ম্যাচ ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতার। এরপরও ইকুয়েডরের বিপক্ষে হারা শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে বড় এক অশনিসঙ্কেত।

ম্যাচের শুরুটা ছিল জার্মানির। মাত্র দুই মিনিটেই লেরয় সানের গোলে জার্মানরা লিড নেয়। অন্য দশটি জার্মান ম্যাচের মতোই অনুমেয় লাগলেও আজকের দিনটি যে ছিল ভিন্ন। নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের সমর্থকে পরিপূর্ণ। গ্যালারি থেকে ফুটবলারদের প্রতিনিয়ত উজ্জ্বীবিত করে যাচ্ছিলেন তারা। সেটার প্রভাব পড়ে মাঠেও। ইকুয়েডর মিনিট দশেকের মধ্যেই খেলায় ফেরে। বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার ও জার্মান ডিফেন্স পরাস্ত করে ইকুয়েডরকে সমতায় আনেন নিলসন আঙ্গুলো। 

dhakapost

জার্মানরা দমে যাওয়ার পাত্র নয়। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। ইকুয়েডরও কখনও পাল্টা জবাব, আবার কখনও সংঘবদ্ধ আক্রমণ করে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দুই দলের কেউই প্রথমার্ধে আর গোল বাড়াতে পারেনি। 

দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি একটি পেনাল্টি পায়। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর পর পর আবার ভিএআরে চেক করেন। এরপর সেই পেনাল্টি বাতিল হলে জার্মানির আরেক গোলের সম্ভাবনা কমে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে জার্মান সমর্থকদের স্তব্ধ করে গঞ্জালো প্লাতা গোল করলে নিউজার্সি স্টেডিয়াম ইকুয়েডরের দর্শকদের ধ্বনিতে মুখরিত হয়। কেউ পানি আবার কেউ বিয়ার ছিটিয়ে গ্যালারিতে সেই গোল উদযাপন করেছেন। 

প্রতিপক্ষ যখন জার্মানি, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত ইকুয়েডরের জয় অনিশ্চিত ছিল। জার্মানির কোচ দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড় ও কৌশল পরিবর্তন করেছেন অনেক। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ মিনিট দশেক সময় গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার সেন্টার লাইনের উপরে ছিলেন। ইকুয়েডর ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিট ছাড়া বাকি সময় দুর্দান্ত কৌশলী ফুটবল খেলেছে। গতি, ছন্দ ও টেকনিকে কখনও মনে হয়নি চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে খেলছে। উল্টো আজ জার্মানিকে অন্য রকম লেগেছে। জার্মানির ডিফেন্স বেশ কয়েকবারই ভেঙেছে ইকুয়েডরের গতির কাছে। 

আজকের ম্যাচে অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় ছিল নারী রেফারি টরি পেনসো। চার বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির ম্যাচ অত্যন্ত সাবলীলভাবে চালিয়েছেন। দুই দলের ফুটবলারদের কার্ড প্রদর্শন করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই রেখেছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশ বলিষ্ঠ ভূমিকা দেখিয়েছেন পেনসো।

এজেড/এএইচএস