আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২৬ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। ২০০০ সালের ২৬ জুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পূর্ণ সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে টেস্ট খেলুড়ে দেশের কাতারে নাম লেখায় টাইগাররা। যদিও অভিষেক টেস্ট খেলতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল। একই বছরের ১০ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার সাদা পোশাকে মাঠে নামে বাংলাদেশ।
দীর্ঘ এই ২৬ বছরের পথচলায় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য এখনো প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই সীমিত। ২৬ বছরে মধ্যে বাংলাদেশ খেলেছে ১৫৮টি টেস্ট। এর মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ২৭টিতে, হার ১১২ ম্যাচে। বাকি ১৯টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ, খেলা মোট ম্যাচের প্রায় ৭১ শতাংশেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, টেস্ট ক্রিকেটে এখনো কতটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।
তবে সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচও তুলনামূলক কম। দীর্ঘ এই সময়ে দেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার কীর্তি গড়েছেন মুশফিকুর রহিম।
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্টে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে দেখা যাচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টাইগাররা খেলেছে ৪১টি টেস্ট, যেখানে জয় এসেছে ১৪টিতে। এই সময়ের সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জন ছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের হারানো। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে মুমিনুল হকের নেতৃত্বে সেই জয় এশিয়ার কোনো দলের জন্যই ছিল প্রথম। সেই ম্যাচ থেকেই টেস্ট ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের যাত্রা শুরু।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও আশাবাদী হওয়ার মতো। ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলেছে ২২টি টেস্ট। এর মধ্যে জয় পেয়েছে ১১ ম্যাচে, অর্থাৎ প্রতি দুই ম্যাচে একটি করে জয়। এই সময়ে জয়ের সংখ্যায় পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকেও পেছনে ফেলেছে টাইগাররা। এমনকি জয়ের হারের দিক থেকে ইংল্যান্ডের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে ইংল্যান্ড গড়ে প্রতি দুই ম্যাচে একটি জয় পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের জয়ের হার আরও ভালো।
এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অপেক্ষা। আগামী ২৮ জুন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরেকটি টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জিততে পারলে টেস্ট ইতিহাসে জয়ের সংখ্যাও আরও বাড়বে টাইগারদের।
তবে আশার পাশাপাশি আক্ষেপও রয়েছে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোনো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। এবার সেই অপূর্ণতা পূরণ করার অপেক্ষায় লাল-সবুজের দল।
আইএইচ
