ফুটবল মাঠে কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের উপস্থিতি শুধু খেলার গতি নয়, পুরো ম্যাচের ছন্দই বদলে দেয়। নেদারল্যান্ডসের ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং সেই বিরল শ্রেণির একজন। মাঝমাঠে তার শৈল্পিক নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস আর খেলার গতি নির্ধারণের ক্ষমতা ডাচদের ফুটবলে এনে দেয় আলাদা এক মাত্রা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। সেই জয়ের পেছনেও বড় ভূমিকা ছিল ডি ইয়ংয়ের। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানালেন এই ডাচ মিডফিল্ডার।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৯ বছর বয়সী ডি ইয়ংকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৩৯ বছর বয়সেও মেসির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স তাকে বিস্মিত করে কি না? উত্তরে তিনি বলেন, ‘না, এটা আমাকে মোটেও অবাক করে না। কারণ মেসি তো মেসিই। লিও ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়, তাই এখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’
এই প্রশংসার পেছনে আছে দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং মাঠের অসংখ্য স্মৃতি। ২০১৯ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর ক্যারিয়ারের প্রথম দুই মৌসুম মেসির সঙ্গে খেলেছেন ডি ইয়ং। সেই সময়ই গড়ে ওঠে তাদের দুর্দান্ত বোঝাপড়া।
পরিসংখ্যান বলছে, একসঙ্গে ৮০টি ম্যাচ খেলেছেন দুজন। তাদের পারস্পরিক সমন্বয় থেকে এসেছে সাতটি গোল। ডি ইয়ংয়ের বাড়ানো পাস থেকে মেসি গোল করেছেন পাঁচবার, আর আর্জেন্টাইন জাদুকরের অ্যাসিস্টে গোল উদযাপন করেছেন ডি ইয়ং দুবার। ২০২০-২১ মৌসুমে বার্সেলোনার কোপা দেল রে জয়ের অভিযানে এই জুটির অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার পর অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী ডাচরা। তবে শিরোপার স্বপ্নে ভেসে না গিয়ে ধাপে ধাপে এগোতেই চান ডি ইয়ং, ‘গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করতে পেরে আমি খুব খুশি। এটাই ছিল আমাদের প্রথম লক্ষ্য। এখন আমরা আরও সামনের দিকে তাকাচ্ছি। তবে আমরা একবারে একটি ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চাই। এই মুহূর্তে আমাদের সব মনোযোগ মরক্কো ম্যাচের দিকে।’
‘তারা খুব ভালো দল। দলে অসাধারণ মানের অনেক খেলোয়াড় আছে। গত বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল খেলেছিল। এবারও তারা শক্তিশালী একটি দল, তাই ম্যাচটি কঠিন হবে।’-যোগ করেন তিনি।
এইচজেএস

