চলতি বিশ্বকাপে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ করেছে ইরান। ভিসা নিয়ে জটিলতা, ভ্রমণ সংক্রান্ত আমেরিকান বিধিনিষেধ ও ভিন্ন দেশে বেসক্যাম্প— এসব প্রতিকূলতার মধ্যেই সরাসরি নকআউটে ওঠার সুযোগ তৈরি করেছিল ইরান। মিসরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে তাদের করা জয়সূচক গোল বাতিল হয়।
মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার কারণে ইরানের নকআউট ভাগ্য ঝুলে রইল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে নিশ্চিত হবে তারা শেষ ৩২ এ উঠবে নাকি উঠবে না। তবে স্টপেজ টাইমে সামান্য অফসাইডের কারণে গোলটা বাতিল না হলে কিংবা সায়েদ ইজাতোলাহির হেড ক্রসবারে না লাগলে ফল ভিন্ন হতো।
৯৩তম মিনিটে শোজা খালিলজাদেহ সম্ভবত ইরানিয়ান ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত গোল করেছিলেন। কিন্তু তার পা শেষ ডিফেন্ডারকে সামান্য অতিক্রম করার কারণে ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়।
তাতে মাঠ ও গ্যালারিতে ইরানের আনন্দঘন পরিবেশ কিছুক্ষণের মধ্যে বিষাদে রূপ নেয়। ২-১ স্কোর ফের ১-১ এ দাঁড়ালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নেয় মিসর।
ইরানকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর দিকে। আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচ যদি ড্র হয়, ডিআর কঙ্গোর কাছে যদি উজবেকিস্তান হারে, অথবা ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া যদি এক পয়েন্ট পায়—তাহলেই নকআউটের টিকিট পেতে পারে ইরান।
‘বৈষম্যমূলক আচরণের’ কারণে ইরান এরই মধ্যে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল পেয়েও বাতিল হওয়ার কারণে দুর্ভাগ্যকে দুষলেন কোচ আমির গালেনোয়েই।
তিনি বলেন, ‘এখানে নিয়মকানুন রয়েছে এবং সবকিছুই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে চলে, আমি সেটা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের যে দুর্ভাগ্য হয়েছে, তা নিয়ে আমি সত্যিই খুব মনঃক্ষুণ্ণ। মাত্র কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধানে আমাদের গোলটি বাতিল হয়ে গেল। সেটা অবশ্য ন্যায্য ছিল। কিন্তু এই দুর্ভাগ্য আমাকে পোড়াচ্ছে।’
ইরান কোচ আফসোস নিয়ে বললেন, ‘আমি আগে ভাবতাম আমরা কেবল একটি অবহেলিত বা সুবিধাবঞ্চিত দল (টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইরানের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা জটিলতার কারণে কোচিং স্টাফের কিছু সদস্যের আসতে না পারার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে)। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, আমরা একটি দুর্ভাগ্যপীড়িত দলও বটে।’
এফএইচএম

