World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা : নতুন ইতিহাস গড়বে কে?

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা : নতুন ইতিহাস গড়বে কে?

চলতি বিশ্বকাপে শেষ ৩২ এর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচ খেলা দুটি দল। দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের সহআয়োজক কানাডার।

দুই দলই প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। মানে যে দলই জিতুক, নতুন ইতিহাস গড়বে প্রথমবার শেষ ষোলোতে উঠে। এবারের টুর্নামেন্ট যে আন্ডারডগদের, তা প্রমাণ করেই দুই দল গ্রুপ পর্বের বাধা পার করেছে। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হবে।

যেভাবে নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা

দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেছে, কিন্তু আরেক আয়োজক মেক্সিকোর কাছে সেই ম্যাচ হেরেছে। মেক্সিকো সিটিতে ২-০ গোলে সেই হারের পর চেক রিপাবলিকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র। আটলান্টায় থাপেলো মাসেকোর দ্বিতীয়ার্ধের পেনাল্টি থেকে পয়েন্ট আদায় করে তারা।

মন্টেরিতে ছিল রোমাঞ্চকর ম্যাচ। শেষ ৩২ এ উঠতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জিততে হতো বাফানা বাফানাদের। এশিয়ান জায়ান্টদের স্বপ্ন ভেঙে দেয় মাসেকোর একমাত্র গোল। ‘এ’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে তারা।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলেছিল কানাডা। সহ আয়োজকরা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। সাইল লারিন ৭৬তম মিনিটে বদলি নামার ১২১ সেকেন্ড পর সমতা ফেরান। 

তারপর টানা দুইবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় কানাডা। হ্যাটট্রিক করেন জোনাথান ডেভিড। তাতে নিশ্চিত হয় নকআউট। শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি দলটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার সাম্প্রতিক ফর্ম

দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক ফর্ম তেমন চোখে পড়ার মতো নয়। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারানোর আগে সাত ম্যাচের জয়খরা ছিল তাদের, হার তিনটিতে। জানুয়ারিতে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর শুরু হয় জয়খরা, যে ম্যাচ হেরে আফকন থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল তাদের।

কানাডা কিন্তু দারুণ ফর্মে। সুইজারল্যান্ডের কাছে হার ছিল তাদের ১১ ম্যাচে প্রথম। বিশ্বকাপের আগে আটটি প্রীতি ম্যাচসহ সব মিলিয়ে ১০ ম্যাচ অজেয় ছিল তারা। এই টুর্নামেন্টের আগে শেষ হার ছিল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এক প্রীতি ম্যাচে।

ম্যাচের প্রেডিকশন

অপ্টা সুপারকম্পিউটার বলছে, শেষ ষোলোতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কানাডার বেশি—৬৬ শতাংশ। তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নেমে ২৫ শতাংশে, ফাইনাল মাত্র ২ শতাংশ! আর দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।

এই ম্যাচ জয়ী দল শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস কিংবা মরক্কোর। তাতে করে অলআফ্রিকান শেষ ষোলো হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মহাদেশের উত্তর অঞ্চল শাসন করা মরক্কানদের বিপক্ষে দাঁড়াতে হতে পারে বাফানা বাফানাদের। 

হেড ‍টু হেড

দুই দল এর আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রীতি ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ গোলে জিতেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের খবর

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখার কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরছেন তেবোহো মোকোয়েনা। ২৯ বছর বয়সী খেলেননি দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। মিডফিল্ডে ইয়াইয়া সিটহোলের বদলে আসতে পারেন তিনি। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লাল কার্ড দেখার কারণে নিষিদ্ধই আছেন থেম্বা জোয়ানে। 

দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য শুরুর একাদশ

উইলিয়ামস (গোলকিপার), মুদাউ, এম্বোকাজি, ওকোন, মোদিবা, এমবাথা, মোকোয়েনা, মাসেকো, মোফোকেং, আপোলিস, মাকগোপা।

কানাডা দলের খবর

কাতারের বিপক্ষে পাওয়া চোটে মাঠের বাইরে ইসমাইল কোনে। আঘাত পাওয়া স্টেফেন ইউসতাকুইও ও আলফি জোন্স ফিটনেস টেস্ট দিয়েছেন। ভালো খবর, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে মাঠের বাইরে থাকা আলফোন্সো ডেভিসকে বেঞ্চে দেখা যেতে পারে।

সম্ভাব্য শুরুর একাদশ

ক্রেপেউ (গোলকিপার), জনস্টন, ডি ফোগেরোলেস, কর্নেলিয়াস, লারিয়া, বুখানান, ইউসতাকুইও, সালিবা, আহমেদ, ডেভিড, লারিন।

এফএইচএম