World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

শেষ দেখায় জিতেছিল জাপান, প্রতিশোধ নিতে পারবে ব্রাজিল?

শেষ দেখায় জিতেছিল জাপান, প্রতিশোধ নিতে পারবে ব্রাজিল?

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই ভুলের কোনো সুযোগ নেই। এক ম্যাচেই শেষ হয়ে যেতে পারে চার বছরের প্রস্তুতি, আবার একই ম্যাচ লিখে দিতে পারে নতুন ইতিহাস। সোমবার হিউস্টন স্টেডিয়ামে এমনই এক মহারণে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং এশিয়ার পরাশক্তি জাপান।

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করেছে সেলেসাওরা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চলতি বছরে সাত ম্যাচে ব্রাজিলের রেকর্ডও ঈর্ষণীয়—পাঁচ জয়, এক ড্র এবং মাত্র এক হার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ ধরে অপরাজিত রয়েছে তারা।

অন্যদিকে সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে গ্রুপপর্ব শেষ করেছে জাপান। সেই ম্যাচে দলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন দাইজেন মায়েদা। ড্র হলেও নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারাকে ১০ ম্যাচে নিয়ে গেছে ‘সামুরাই ব্লু’রা।

গ্রুপপর্বে সাত পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে ব্রাজিল। আর পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে জাপান।

দুই দলের সর্বশেষ দেখাটা অবশ্য ব্রাজিলের জন্য সুখকর ছিল না। গত অক্টোবরে টোকিওর আজিনোমোতো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল জাপান। সেই ম্যাচে তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদা গোল করেছিলেন জাপানের হয়ে। ব্রাজিলের হয়ে গোল দুটি করেছিলেন পাওলো হেনরিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। তাই এবার প্রতিশোধের পাশাপাশি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যও থাকবে সেলেসাওদের সামনে।

চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চার গোল নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। অনেক ম্যাচেই ব্রাজিলকে এগিয়ে নেওয়ার প্রথম গোলটি এসেছে তার পা থেকেই।

অন্যদিকে জাপানের আক্রমণভাগে সবচেয়ে ধারালো দুই অস্ত্র দাইচি কামাদা এবং আয়াসে উয়েদা। দুজনই এখন পর্যন্ত দুটি করে গোল করেছেন। পাশাপাশি দাইজেন মায়েদা, মিনামিনো কিংবা কেইতো নাকামুরার মতো খেলোয়াড়রাও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে সমস্যা তৈরি করার সামর্থ্য রাখেন।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছে ব্রাজিল এবং জাপান—যা তাদের আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ছয় ম্যাচে ব্রাজিল ১৮ গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৫টি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই প্রথম গোল করেছে তারা। তাদের ১৮ গোলের মধ্যে ১০টিই এসেছে প্রথমার্ধে।

অন্যদিকে জাপান শেষ ছয় ম্যাচে চার জয় ও দুই ড্র করেছে। এই সময়ে তারা ১০ গোল করেছে এবং হজম করেছে মাত্র ৩টি। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই প্রথম গোল করেছে এশিয়ার দলটি। আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই সময়ে তাদের প্রতিপক্ষরা প্রথমার্ধে কোনো গোলই করতে পারেনি।

এইচজেএস