নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারিয়ে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছে আইরিশরা। এমন এক ঐতিহাসিক অর্জনের আনন্দ দীর্ঘদিন ধরে উপভোগ করার কথা ছিল দলটির প্রধান কোচ হেনরিখ মালানের। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই, সিরিজ জয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ।
মালানের বিদায়ের খবরটি আলোচনায় এসেছে সময়ের কারণে। গতকাল রোববার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে মাত্র ১ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে আয়ারল্যান্ড। তার আগে প্রথম ম্যাচেও ৩৪ রানের জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ফলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ে আইরিশরা। এরপরই পদত্যাগ করলেন এই কোচ।
৪৫ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের সঙ্গে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের চুক্তি ছিল ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত। তবে সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি। আইরিশ ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মালান স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বিশ্বাস, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ও মূল লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন কোচকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিন বছরের চুক্তিতে আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন মালান। পরে ২০২৪ সালে তার চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। চার বছরের বেশি সময়ের দায়িত্বকালে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটে তিনি রেখে গেছেন বেশ কিছু স্মরণীয় অধ্যায়।
মালানের অধীনে আয়ারল্যান্ড টানা তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালের মেলবোর্নে, যেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল আইরিশরা।
শুধু টি-টোয়েন্টিতেই নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও তার সময়টা ছিল ঐতিহাসিক। আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত পাওয়া তিনটি টেস্ট জয়ের প্রতিটিতেই ডাগআউটে ছিলেন মালান। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় কিংবা বেলফাস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট জয়—সবকিছুই এসেছে তার অধীনে।
মালান বলেন, 'খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং পুরো আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য অসাধারণ সৌভাগ্যের বিষয়। এখানে বসবাসের অভিজ্ঞতাও আমার এবং আমার পরিবারের জন্য ছিল দারুণ। আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমরা সবসময় ভালোবাসা ও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করব।'
নিজের সময়ের অর্জনগুলো স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, 'মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়, আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়, বেলফাস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট জয়, ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় এবং পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারানোর স্মৃতিগুলো আমাদের জন্য গর্বের। বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এবং তাদের হারানোর সামর্থ্য অর্জন করেছিল বলেই আমরা সরাসরি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপগুলোতে জায়গা করে নিতে পেরেছি।'
এইচজেএস
