নিউইয়র্ককে বলা হয় অভিবাসীদের শহর। নানা দেশ ও জাতির মানুষের বাস যুক্তরাষ্ট্রের এই শহরটিতে। অনেক জাতি-সত্ত্বার মধ্যেও বাংলাদেশ ও বাঙালিরা আলাদাভাবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আমেরিকার কালচারাল সংগঠন ‘বাংলা মেলা’ আয়োজন করেছে ব্রোনস শহরে।
নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও ব্রোনস এলাকায় বাংলাদেশিদের বসবাস বেশি। গতকাল রোববার সপ্তাহের ছুটির দিন বাংলা মেলা বসেছে। কাপড়, খাবারের স্টল, সাংস্কৃতিক গান ও হেলথ চেক আপসহ সব কিছুরই ব্যবস্থা ছিল।
নিউইয়র্কে জীবন-জীবিকার তাগিদে সবাই প্রতিনিয়ত ছুটে চলেন। এরপরও মাস বা কয়েক মাস পর এ রকম মেলায় বাংলাদেশি কমিউনিটি এক হওয়ার সুযোগ পায়। তাই কেনাবাচা ও গান বাজনার চেয়ে মিলনমেলাই বড় হয়ে ওঠে বাংলাদেশি প্রবাসীর কাছে, ‘এই মেলার মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশিদের সম্মিলন হয়। কে কোন জেলার, কে কোন বিশ্বাসের সকল কিছু ভুলে আমরা বাংলাদেশি হিসেবে দিন পার করি'-বলছিলেন কাপড়ের স্টল দেওয়া আব্দুর রহিম।

বাংলাদেশি পিঠা, বাহারি চুরি, তাতের কাপড় থেকে শুরু করে সব বাংলাদেশি পণ্য। অনেক ক্রেতা এমন মেলার জন্য অপেক্ষা করেন, ‘প্রবাসে থাকলেও আমরা দেশকে ধারণ করি সব সময়। তাই বাংলাদেশের মেলা থেকে অনেক জিনিস সংগ্রহ করি। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই এমন আয়োজন প্রায়ই করার জন্য’-বলেন মৌলি।
ব্রোনসের এক স্কুলের সামনের রাস্তায় এই মেলা আয়োজন হয়েছে। এ রকম অনুষ্ঠান করতে নিউইয়র্ক প্রশাসনের কাছ থেকে আগেভাগে অনুমতি নেয় সংগঠনের কর্মকর্তারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মেলা। নিউইয়র্কে এক শহরে হওয়ার পর আরেক শহরে হয় এমন আয়োজন। গ্রীষ্মকালীন সময়ে এমন আয়োজন বেশি হয়ে থাকে।

সপ্তাহে রোববার ছুটি থাকে প্রায় সবারই। তাই এ দিন অনেক সংগঠন পিকনিক, গেট টু গেদারের আয়োজন করে থাকে। শহরের নিকটবর্তী পার্কে রোববার বনভোজন আনন্দে মেতে উঠেন অনেকে। গতকাল আইল্যান্ডে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া ও ফেঞ্চুগঞ্জ সমিতির গেটটুগেদার ছিল। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা প্রবাসীদের এটাই আনন্দের উপলক্ষ্য।
নিউইয়র্ক বিশ্বকাপের শহর। বাংলাদেশি মানুষ অত্যন্ত ফুটবল প্রিয়। তাই বাংলাদেশিদের আড্ডায় এখন ফুটবল। এত কাছে থেকে কারো বিশ্বকাপ সরাসরি না দেখতে পারার আক্ষেপ আবার কেউ বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে কাছ থেকে তারকাদের দেখার গল্প বলেন।
এজেড/

