হারের শঙ্কায় শুরু হয়েছিল ম্যাচ, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলল। ঘুরে দাঁড়াল। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২ এ ২-১ গোলের জয়ের পর নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান-এর মতো বিশ্ব গণমাধ্যম প্রশংসায় ভাসিয়েছে ব্রাজিলকে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে যে, অন্য ম্যাচগুলোর মতো জাপানের বিপক্ষেও দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্রাজিল হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছেন। তবে আনচেলত্তির কৌশল এখানেও কাজ করছে।
তারা বলেছে, ‘এই টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম নয় যে ব্রাজিল দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবং এবারই প্রথম নয় যে তারা কোনো আঘাত ছাড়াই পার পেয়ে গেছে। এটি ব্যাখ্যা করা কঠিন হতে পারে, তবে কার্লো আনচেলত্তির যে কৌশলটি রিয়াল মাদ্রিদে সফল হয়েছিল, তা আবারও কাজ করছে- ম্যাচে যেকোনোভাবে টিকে থাকা, যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ কোনো ভুল করে বসে অথবা দলের কোনো অসাধারণ খেলোয়াড় চমৎকার কিছু করে দেখায়।’
/i.s3.glbimg.com/v1/AUTH_da025474c0c44edd99332dddb09cabe8/internal_photos/bs/2026/O/0/Ma4aoTSI2JF9Pq89pkpg/capturar.png)
সংবাদপত্রটি জাপানের পারফরম্যান্স নিয়েও মন্তব্য করেছে এবং একে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশটির ‘সেরা’ পারফরম্যান্স বলে আখ্যা দিয়েছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ব্রাজিলের এই পারফরম্যান্সকে ‘রোমাঞ্চকর’ বলার পাশাপাশি ‘নাটকীয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছে। তাদের ‘লাইভ’ সেকশনে পত্রিকাটি আর্সেনালের এই স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করেছে।
‘আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি দ্বিতীয়ার্ধের ৫১তম মিনিটে (ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে) জয়সূচক গোলটি করেন, যা নাটকীয়ভাবে ব্রাজিলের শেষ ১৬-এর যোগ্যতা নিশ্চিত করে।’
পত্রিকাটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার কাসেমিরোর পারফরম্যান্স নিয়েও মন্তব্য করে বলেছে যে, তিনি ‘প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করতে অভ্যস্ত।’
টাইমস তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ম্যাচটি যারা দেখছিলেন, তাদের প্রায় সবাই আশা করেছিলেন যে কার্লো আনচেলত্তি প্রথমার্ধের বিরতিতেই কাসেমিরোকে তুলে নেবেন। কিন্তু এই ইতালীয় কোচ কৌশলগত ফরমেশনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন। সেটা অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে মাঠে আরও স্বাধীনতা দেয়। এর পরপরই কাসেমিরো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধের ১১তম মিনিটে নিজের ট্রেডমার্ক হেডার থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। ব্রাজিলের এই তারকা প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করতে অভ্যস্ত এবং এক দিক থেকে এই ম্যাচটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার কাটানো সময়েরই সারসংক্ষেপ। প্রথমার্ধে তাকে কিছুটা ধীরগতির এবং ছন্দহীন মনে হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিনি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।’
স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা ব্রাজিলের এই জয়কে জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ক্যাপ্টেন সুবাসার কথা উল্লেখ করে একটি কার্টুনের মতো সমাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। পত্রিকার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে, ব্রাজিল দল সবচেয়ে সুন্দর খেলা উপহার না দিলেও তারা তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে।
/i.s3.glbimg.com/v1/AUTH_da025474c0c44edd99332dddb09cabe8/internal_photos/bs/2026/T/k/guZb78QtyQc6Q4No9xEA/capturar-4-.png)
‘এটি হয়তো ব্রাজিলের সবচেয়ে জমকালো দল নয়, তবে এটি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একটি দল। অনেক কষ্ট করে হলেও মেধার জোরে জাপানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ১৬-তে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।’
প্রকাশনাটি মার্তিনেল্লিকে ক্যাপ্টেন সুবাসা অ্যানিমের মূল চরিত্র ওলিভার সুবাসার সঙ্গেও তুলনা করেছে।
ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপ মাত্র একটি শব্দে ব্রাজিলের এই জয়কে সংজ্ঞায়িত করেছে: মহাকাব্যিক। তা সত্ত্বেও, ম্যাচের পর্যালোচনায় পত্রিকাটি স্বীকার করেছে যে দল ম্যাচের শুরুতে ‘ভয় পেয়ে গিয়েছিল’ এবং পরবর্তী রাউন্ডে তাদের ‘আরও ভালো ফুটবল’ খেলতে হবে।
‘তবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের আরও অনেক ভালো ফুটবল খেলতে হবে, বিশেষ করে প্রথমার্ধের তুলনায়। যখন তারা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে এবং হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছিল।’
এফএইচএম

