৭১ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় ছিল মরক্কো-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। এরপর কোডি গাকপোর গোলে ডাচরা এগিয়ে যায়। তবে মরক্কো নাটকীয়তার জন্ম দেবে সেই সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিল। আফ্রিকান জায়ান্টরা গতি আর আক্রমণ জারি রেখে ইনজুরি টাইমেই সমতায় ফিরল ইসা দিওপের গোলে। ফলে ১-১ স্কোরলাইন নিয়ে ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
গোল হজমের পরও দমে যায়নি মরক্কো। উল্টো সমতায় ফিরতে মরিয়া ছিল। ৯০ মিনিট পর ইনজুরি সময় ছিল ৬ মিনিটের। যার শুরুতেই তালবির বাড়ানো লম্বা ক্রস পেয়ে বক্সে মাথা ছোঁয়ান দিওপ। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলেই তিনি মরক্কোকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচে ফেরালেন।
এর আগে একের পর এক আক্রমণেও মাচের ডেডলক ভাঙতে পারছিল না নেদারল্যান্ডস-মরক্কোর কেউই। আশরাফ হাকিমির শট গোলবারে লেগে ফেরায় গতবারের সেমিফাইনালিস্টদের হতাশায় পুড়তে হয়। অবশেষে ৭২ মিনিটে স্কোরলাইনে পরিবর্তন আনেন গাকপো। ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই সন্তান হারানোর বেদনায় ভোগা এই তারকা নেদারল্যান্ডসকে লিড এনে দেওয়ার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সম্প্রতি গাকপো ও তার জীবনসঙ্গীনি ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে সন্তানের মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবুও টুর্নামেন্টে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ২৭ বছর বয়সী এই লিভারপুল ফরোয়ার্ড। সেই বেদনার স্মৃতি পেরিয়ে গাকপোর স্মরণীয় গোলে লিড পায় ডাচরা। ক্ষিপ্রগতিতে ওয়েগহর্স্ট বক্সে ঢোকার পর ১৮ গজ দূরত্বে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। তবে মরক্কোর দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে তিনি শুয়েই বল বাড়িয়ে দেন ছুটে আসা গাকপোর উদ্দেশে। লিভারপুল ফরোয়ার্ড জোরালো গতিতে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে ফাঁকি দিয়ে সেটি মরক্কোর জালে জড়ান।
নকআউট ম্যাচ হওয়ায় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে লড়াই গড়াল অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। যা এই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় নজির। সেখানেও স্কোরলাইন ১-১ পরিবর্তন না হলে ফল নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে। এর আগে জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচও নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। পরে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে জার্মানদের বিদায় ঘটে।
এএইচএস

