ব্রাজিল-জাপানের রোমাঞ্চকর ম্যাচের ফল এখন ফুটবলভক্তদের কাছে অতীত। এখন বরং তারা পরবর্তী রাউন্ডের প্রতিপক্ষ ও কী ঘটতে যাচ্ছে সেই অঙ্ক কষছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে এশিয়ান জায়ান্টদের বিপক্ষে ব্রাজিল ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। ২০০২ সালের পর এই প্রথমবার নকআউটে পিছিয়ে পড়েও জয় পেল ব্রাজিল, যার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমার্ধের বিরতিতে কার্লো আনচেলত্তির করা পরিবর্তনগুলোই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। এরপর বক্সে আসা ব্রাজিলের বলগুলো জাপান সামাল দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের স্কোয়াড প্রায় একই থাকলেও এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দল। তাদের খেলার মধ্যে প্রথমার্ধে যে তাড়না আর তীব্রতার অভাব ছিল, সেটা ফিরে আসে কার্লোর কৌশলগত পরিবর্তনের পর।
— Oyiga Micheal (@Nsukka_okpa) June 29, 2026
এমনকি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চিরাচরিত বিশ্বাস খেলার বিরতিতে শিষ্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন আনচেলত্তি। তিনি জানান, ‘প্রথমার্ধ শেষে আমি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম, কারণ আগে-পরে আমরা স্কোর করবই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিজেদের কাঠামো ঠিক রাখা। আমরা জানি আমাদের দিক সঠিক পথেই আছে এবং সেই রাস্তায় আমাদের অব্যাহতভাবে চলতে হবে।’
ব্রাজিল খেলার প্রথমার্ধে ১২টি ক্রস করেছিল, কিন্তু সাধারণত তারা দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর চিরচেনা ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে জাপানের রক্ষণভাগ ভাঙার চেষ্টা করছিল। দ্বিতীয়ার্ধে সেই কৌশল ভুলে তারা প্রতিপক্ষের বক্সে ২৮টি ক্রস বাড়ায়। তারই ফল আসে ৫৬ মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েসের ক্রস থেকে লাফিয়ে হেড দিয়ে বল জালে জড়ান ক্যাসেমিরো। এর আগে ২৯ মিনিটে লিড নিয়েছিল জাপান। আর ব্রাজিল জয়নির্ধারণী গোল পায় ৯৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিং টাচে।
প্রায় ৯৫ মিনিট ব্রাজিলকে জয়ের অপেক্ষায় রাখা জাপান রেফারি শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশায় মুষড়ে পড়ে। কান্নায় ভেঙে পড়েন দলটির কেউ কেউ। তখন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জয়-উদযাপন বাদ দিয়ে তাদের কাছে ছুটে যান। সান্ত্বনা আর স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন দারুণ লড়াই উপহার দেওয়া জাপানিজ ফুটবলারদের। খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া কৌশলের পর মানবিক দৃশ্যের জন্ম দিয়ে আনচেলত্তি সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।
এ ছাড়া ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র, ম্যাথিউস কুনহা এবং গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও ছুটে গিয়ে জাপানিজ ফুটবলারদের শুভকামনা ও সান্ত্বনা দিয়েছেন।
এএইচএস

