২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জমজমাট নক-আউট পর্বের লড়াই চলছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে। তবে ৮ বছর আগে ২০১৮ সালে যখন আজকের এই মেগা বিশ্বকাপ আলোর মুখ দেখছিল, তখন একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। সম্প্রতি তার সেই সাক্ষাৎকারটি নতুন করে ভাইরাল হচ্ছে।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতেই আর্জেন্টিনাকে একক নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। অথচ সেই মেক্সিকো যখন ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায়, তখন ম্যারাডোনা মোটেই খুশি হতে পারেননি। লাতিন আমেরিকার এক টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মেক্সিকো এটা পাওয়ার যোগ্যই না। মেক্সিকানরা যখনই জার্মানি বা ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়... ব্যস, ওখানেই তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।’
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নিয়ে ম্যারাডোনার আপত্তি ছিল মূলত মাঠের বাইরের সংস্কৃতি নিয়ে। শীতকালীন অলিম্পিক বা স্কিইংয়ের প্রতি কানাডিয়ানদের ভালোবাসার দিকে ইঙ্গিত করে ম্যারাডোনা টিপ্পনী কেটে বলেছিলেন, ‘ওদের ফুটবল নিয়ে কোনো খাঁটি আবেগ নেই। কানাডিয়ানরা বড়জোর ভালো স্কিইয়ার হতে পারে।’
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট মানসিকতা ও বিজ্ঞাপনী বাণিজ্যের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র নাকি ফুটবলের ৯০ মিনিটের প্রথা ভেঙে ২৫ মিনিট করে চার কোয়ার্টারে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তারা বেশি বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে! ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমেরিকানরা তো বিজ্ঞাপনের স্বার্থে খেলাটিকে ২৫ মিনিটের চার পিরিয়ডে ভাগ করতে চেয়েছিল।’
আর এই বিষয়টিই টেনে আনছেন ফুটবলপ্রেমীরা। একটি ম্যাচকে চারভাগে ভাগ করা না হলেও রাখা হয়েছে হাইড্রেশন ব্রেক। যার দরুন একটি ম্যাচ ঠিকই চার ভাগে বিভক্ত হয়েছে। আর এটা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন ম্যারাডোনা।
এমএমএম/

