World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

জার্সি বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসা করানো গিলই জার্মান বধের নায়ক

জার্সি বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসা করানো গিলই জার্মান বধের নায়ক

টাইব্রেকারে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সামনে একের পর এক জার্মান ফুটবলারের লক্ষ্য ভেদের চেষ্টা। কাই হাভার্ৎজ, নিক ওল্টেমেডরা গোল করার জন্য প্রস্তুত। আর পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে অরল্যান্ডো গিল। তখন তার মাথায় কী চলছিল? বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচের চাপ, নাকি জীবনের আরও বড় কোনো লড়াইয়ের স্মৃতি?

হয়তো সেই মুহূর্তে কিছুই মনে ছিল না। কিন্তু ম্যাচ শেষে যখন সতীর্থদের উল্লাসের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন তার নিজের জীবনকাহিনি নিশ্চয়ই নতুন করে ফিরে এসেছে। কারণ, জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়েকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় তুলে দেওয়ার নায়ক হওয়ার অনেক আগেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই জিতে নিয়েছিলেন তিনি। অরল্যান্ডো গিলের গল্পটা শুধু একটি টাইব্রেকারের নয়। এটি এক বাবার গল্প, এক যোদ্ধার গল্প।

অরল্যান্ডোর হাতেই থেমেছে জার্মানির বিশ্বকাপযাত্রা। টাইব্রেকারে একের পর এক শট ঠেকিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন প্যারাগুয়ের নতুন নায়ক। তবে ম্যাচের গল্প শুধু টাইব্রেকারে সীমাবদ্ধ নয়। তার আগে পুরো ১২০ মিনিট জুড়েই জার্মান আক্রমণের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। একবার মাত্র তাকে পরাস্ত করতে পেরেছিল জার্মানি। আরেকবার বল জালে গেলেও তার আগেই গোলরক্ষককে ফাউল করায় সেই গোল বাতিল হয়।

বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে এমন পারফরম্যান্সের পর এখন তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্যারাগুয়ের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন গিল। তখনই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। সন্তানের জন্মের পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। একজন তরুণ ফুটবলারের পক্ষে সেই খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি।

সন্তানকে বাঁচাতে একে একে বিক্রি করে দেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসগুলো। গোলরক্ষকের গ্লাভস, খেলার জুতো, ফুটবল কিট—কিছুই রেখে দেননি। এমনকি অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলা নিজের জার্সিটিও বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে। নিজের স্বপ্নের স্মারকগুলো ছেড়ে দিয়ে সন্তানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন গিল।

জীবনের সেই যুদ্ধে তিনি জিতেছিলেন। আর যে মানুষ নিজের সন্তানের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে পারেন, বিশ্বকাপের চাপ তার কাছে হয়তো খুব বড় কিছু নয়।

২৬ বছর বয়সী গিল খুব পরিচিত কোনো নাম ছিলেন না। আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লোরেঞ্জোর গোলরক্ষক হিসেবে নিয়মিত খেললেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কখনো ছিলেন না। চলতি মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ২২টি ম্যাচ। জাতীয় দলের জার্সিতেও অভিজ্ঞতা সীমিত—জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তার মাত্র দশম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। কিন্তু কখনো কখনো একটি ম্যাচই একজন ফুটবলারের পুরো পরিচয় বদলে দেয়।

এইচজেএস