World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

নিউজার্সিতে এমবাপে শো

নিউজার্সিতে এমবাপে শো

প্রেস ট্রিবিউন গোল পোস্টের ঠিক বিপরীতেই। প্রথমার্ধে সুইডেনের পোস্টের দিকে থাকায় ফ্রান্সের আক্রমণ খুব কাছ থেকে দেখা গেছে। এমবাপের আগ্রাসন ছিল দেখার মতো। গতির সঙ্গে স্কিল ও পাওয়ারের অপূর্ব মিশেল। 

বিশ্ব ফুটবলে বড় তারকা এমবাপে। মেসি-রোনালদো আনুষ্ঠানিক অবসর নেওয়ার পর তার হাতেই থাকবে ফুটবলের ব্যাটন, সেটা বারবার জানান দিচ্ছে। গতকাল জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস বিদায় নিয়েছে। তাই আজ ফ্রান্সের ম্যাচ নিয়ে খানিকটা শঙ্কা ছিল। সেটা পুরোপুরি উড়ে গেছে এমবাপে শোতে। 

সত্তর-আশির দশকের ব্রাজিলের প্রতিচ্ছবি যেন ফ্রান্স। গোল হজমে কোনো সমস্যা নেই, এর চেয়ে বেশি গোল দিলেই তো ম্যাচ জেতা যায়। ফ্রান্স শুরু থেকে সুইডেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে খেলছিল। এমবাপে প্রথমার্ধের শুরুতে গোল করেছিলেন। মধ্যমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে জোরালো শটে গোল করেন। অফসাইডে সেই গোল বাতিল না হলে ম্যাচ শেষে এমবাপের হ্যাটট্রিক হতো। 

একের পর এক আক্রমণ। অফ সাইডে গোল বাতিল, দুই বার সাইড পোস্টে লেগে বল ফেরত। কোচ দিদিয়ের দেশম যখন খানিকটা চিন্তায় তখনই এমবাপের গোল। দুই ডিফেন্ডারের মাঝ থেকে কোনাকুনি শটে সুইডেনের জালে বল পাঠান। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফরাসি সমর্থকদের গর্জন। 

দ্বিতীয়ার্ধে পুরোটাই ফ্রান্স শো। আট মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকালো। বক্সের মধ্যে ফ্রি ছিলেন। জোরালো শটে গোল করতে ভুল করেননি। এই গোলের পর আর খেলায় ফিরতে পারেনি সুইডেন। ৭৪ মিনিটে আবার এমবাপে ম্যাজিক। এবার বাঁ প্রান্ত থেকে কোনাকুনি শটে গোল। 

চলমান বিশ্বকাপে মেসি ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। এমবাপে আজ জোড়া গোল করে তাকে স্পর্শ করেছেন। ফ্রান্সের তুরুপের ত্রাস এমবাপে। জয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর কোচ দেশম এমবাপেকে তুলে নেন। এমবাপে হাত উঁচু করে নেড়ে বিদায় নেন। দর্শকরা তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক ও কোচ দেশম এমবাপেকে সামনে থেকে এগিয়ে এসে বেঞ্চে বসান। 

রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে ফরাসিদের উল্লাস। ফুটবলাররা দল বেঁধে গ্যালারির সামনে এসে ধন্যবাদ জানান। খেলা শেষ হওয়ার মিনিট দশেক পার হলেও ফ্রান্সের আনন্দ উদযাপন চলে। এমবাপের নাম ম্যাচসেরা হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর সেই উল্লাস আরও বাড়ে। 

এজেড/এফএইচএম