সবশেষ কয়েকটি টেস্ট সিরিজে দাপটের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ দল। তবে সদ্য সমাপ্ত
হারারে টেস্টে একেবারেই বাজেভাবে হেরেছে তারা। তুলানামূলক কম শক্তিশালী জিম্বাবুয়ের সাথে বিন্দুমাত্র লড়াই করতে পারেনি। মাত্র আড়াই দিনের মাথায় ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
দুই ইনিংস মিলে ব্যাট হাতে একদমই লড়তে পারেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্টে কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দল সাজিয়েছিল তারা। যে কারণে মূল দলের অনেকেই ছিলেন না। ব্যাটিংয়ে ছিলেন না লিটন দাস। এমন পরাজয়ের পর যদিও কোনো অজুহাত দেয়নি দল।
তবে লিটনের অভাব তো টেস্ট দল টের পাবেই। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘লিটনকে দলে পাওয়া সবসময় দারুণ ব্যাপার। তার ব্যাট হাতে যে কোয়ালিটি এবং অভিজ্ঞতা সবকিছুই আপনি পেতে চাইবেন। তাকে মিস করেছি অবশ্যই। তবে মাঝেমধ্যে সেই ফাঁকা স্থানটাও বাকিদের পূরণ করতে হবে যা এই ম্যাচে আমরা করতে পারিনি।’
এদিকে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অধিনায়ক নাজমুল শান্ত বলেন, ‘এখান থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। সামনে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আছে। এই কন্ডিশনে কীভাবে ব্যাট-বল করতে হয় এই শিক্ষা হয়ত সামনে কাজে আসবে বা ওইভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব। তবে ক্যাপ্টেন হিসেবে বলব খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল।’

ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অবশ্য শান্ত প্রশংসা করেন তাইজুল-মুমিনুলের। হারের কারণ হিসেবে দলীয় ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন, ‘তাইজুল ভাইয়ের বোলিং আউটস্ট্যান্ডিং ছিল। এমন কন্ডিশনেও ৭ উইকেট নেওয়া অনেক বড় ব্যাপার। প্রথম ইনিংসে মুমিনুল ভাইয়ের ভালো শুরু ছিল, ৬০ রানের ইনিংস। আরও বড় হতে পারত। যতক্ষণ ব্যাট করেছে দারুণ করেছেন।’
তিনি বললেন, ‘এই দুই জায়গায় ক্যাপ্টেন হিসেবে ভালো দিক বলব। পুরো দল হিসেবে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। এ জায়গা নিয়েই হতাশা বেশি। আশা করি সামনে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াব।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মতো লাল বলেও এখন জিম্বাবুয়ে ভালো করছে। বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে রীতিমতো হুঙ্কার দিয়েছে দলটি। জানা গেল জিম্বাবুয়ের সাফল্যের রহস্য। সাধারণত দলটির পুলে ক্রিকেটার থাকেন ২০ থেকে ২৫ জন। সেই সংখ্যা নির্বাচকরা এবার বাড়িয়ে করেছিলেন ৪২।
সেই ৪২ ক্রিকেটার আবার ছিলেন দেশের সেরা ব্যাটার-বোলাররা। তাদের নিয়ে হয় ক্যাম্প। একটা দলকে পাঠানো হয় বাংলাদেশে, ‘এ’ দল হিসেবে। আবার সবাইকে নতুন করে যাচাই করে সাজানো হয় টেস্টের জাতীয় দল। জিম্বাবুয়ের নতুন টেস্ট অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা বলেন, ‘টেস্টের আগের ক্যাম্পটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২৫-৩০ জন খেলোয়াড় আগে পুলে ছিল, এবার যা ছিল ৪২ জন। দেশের সেরা ব্যাটার-বোলারদের নিয়ে ক্যাম্প হয়েছে।’
বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারানোর ম্যাচে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন ইনোসেন্ট কাইয়া। এছাড়া বল হাতে নিউম্যান নিয়ামহুরি, ব্লেসিং মুজারাবানিরাও দারুণ সমর্থন যুগিয়েছেন এনগারাভাকে। অধিনায়ক বলেন, ‘সবাই কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছে। সবাই মিলেই দল। এ কারণেই ফলাফল এসেছে। ওয়ানডে সিরিজেও ভালো কিছু করতে চাই। তার আগে একটু বিশ্রাম নিতে হবে (হাসি)।’
এসএইচ/এফএইচএম
