খেলা শেষে আধঘণ্টারও বেশি সময় পার। সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারের সংবাদ সম্মেলনও চলল আধঘণ্টা। সুইডিশ কোচ চলে যাওয়ার মিনিট পাঁচেক পর আসলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি কোচ দিদিয়ের দেশম।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে মাঝের আসনে বসার আগেই জনা বিশেক সাংবাদিক হাত উঠালেন। যা সামলাতে ফ্রান্সের মিডিয়া ম্যানেজার হিমশিম অবস্থায়। দ্রুত সময়েই তিনি কয়েকজন সাংবাদিককে বেছে নেন।
ফ্রান্স অপ্রতিরোধ্য। ম্যাচে নামলেই একের পর এক গোল। এরপরও ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম খুব ধীরস্থির, ‘আমরা ধাপে ধাপে ধীরস্থিরভাবে এগোতে চাই। জয় ও গোল পেলেও উন্নতির জায়গা থাকে। আমরা দুটি গোল হজম করেছি। সেটাও ভাবার বিষয়।’
সুইডেন ফ্রান্সের চেয়ে শক্তিমত্তায় পিছিয়ে। প্রথমার্ধে কিছুটা লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে অসহায় আত্নসমর্পণই করেছে। ম্যাচ বিশ্লেষণে দেশম বলেন, ‘আমাদের এক্সিলেন্ট ফুটবলার রয়েছে। গতি সঞ্চারের চেষ্টা করেছি সব সময়। আর দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ কিছুটা ক্লান্ত ছিল।’

কিলিয়ান এমবাপে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় তারকা। তার পাশাপাশি আজ দুু’বার প্রশ্ন হয়েছে মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে। দেশম এসব প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদাভাবে বলতে চাই না। এরপরও যেহেতু জানতে চাইলেন ওলিসে অবশ্যই দারুণ একজন। ডিফেন্স ও আক্রমণ উভয়ক্ষেত্রে তার ভূমিকা থাকে।’
জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস গতকাল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে ফ্রান্স। প্রি কোয়ার্টারে জার্মানির মুখোমুখি হওয়ার বদলে এখন তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। এ সংক্রান্ত প্রশ্নে দেশম মজা করে বলেন, ‘প্যারাগুয়ের সঙ্গে আমার খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তখন আমার এই দলের অনেক খেলোয়াড়ের জন্মও হয়নি। প্যারাগুয়ে ব্যালেন্সড দল, তাদের নিয়ে আমরা এখন পরিকল্পনা করব।’
১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল স্বাগতিক ফ্রান্স। সেই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অধিনায়ক ছিলেন দেশম। তার প্রতি ফরাসি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছেন। ফরাসিতেই উত্তর দিয়েছেন দেশম। ১০টির বেশি প্রশ্ন হলেও দেশমের কাছে জিজ্ঞাসার শেষ নেই সাংবাদিকদের। এক পর্যায়ে তিনি হাত দিয়ে ‘ফ্লাই’ চিহ্ন দেখালেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে ফিরলেন হাসিমুখে।
এজেড/এএইচএস

