মাত্র ১৩টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসর। আর ২০২৬ সালে এসে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮-এ গিয়ে ঠেকেছে। এরপরও দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি।
একবার কিংবা দুবার নয়, টানা তিন বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব পার হতে পারেনি ইতালি ফুটবল দল। এবারের বাছাইপর্ব শেষে সরাসরি মূলপর্বে খেলার সুযোগ না পেলেও সুযোগ ছিল তাদের প্লে-অফ খেলার। কিন্তু সেই প্লে-অফের লড়াই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যায় ইতালির।
বর্তমানে সিলভিও বালদিনির অন্তর্বর্তীকালীন কোচিংয়ে থাকা ইতালি এখন সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া উয়েফা নেশনস কাপের (২০২৬/২৭) প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।
তবে বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও বসে নেই ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। নতুনভাবে ফুটবলকে ঢেলে সাজাতে তোড়জোড় শুরু করেছেন সদ্য নির্বাচিত ফেডারেশন সভাপতি জিওভানি মালাগো। আজ্জুরিদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে তাদের প্রথম পছন্দ এসি মিলান ও ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি।
ফুটবল মহলে গুঞ্জন ছিল, প্রথমে রাজি না হলেও বর্তমানে ইতালির টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদটি গ্রহণ করার খুব কাছাকাছি আছেন মালদিনি। সভাপতি মালাগো চান প্রথমে একজন যোগ্য টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নিয়োগ দিতে, যিনি পরবর্তীতে নিজের পছন্দমতো হেড কোচ বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন।
মালদিনির পাশাপাশি হেড কোচ হিসেবেও বড় চমক আসতে যাচ্ছে ইতালিয়ান শিবিরে। আজ্জুরিদের ডাগআউটে আবারও ফিরতে পারেন সাবেক সফল কোচ রবার্তো মানচিনি, যার অধীনে ২০২০ সালের ইউরো জিতেছিল ইতালি। গুঞ্জন রয়েছে, বছরে ২ মিলিয়ন ইউরো বেতনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মানচিনির সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে ফেডারেশন। এ ছাড়া কোচ হওয়ার দৌড়ে আছেন আন্তোনিও কন্তেও।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে পাওলো মালদিনির ফুটবল মস্তিষ্ক এবং রবার্তো মানচিনির অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে আবার বিশ্বমঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন এক মহাপরিকল্পনা সাজাচ্ছে ইতালি। ফেডারেশন সভাপতির মতে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই হয়তো অফিশিয়াল ঘোষণা চলে আসবে।
এমএমএম/

