আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বকাপ মাতিয়েছিলেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার সিডনি লোপেস কাবরাল। গোল উদযাপনে ম্যাচের মাঝেই প্রেমিকা জেইলি দা ক্রুজের কাছে ছুটে যান তিনি। সেখানেই তৈরি হয়েছে রোমান্টিক মুহূর্ত। তবে আবেগঘন এমন উদযাপন মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন প্রেমিকা জেইলি দা ক্রুজ।
ঘটনাটি ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের। গোল করে ম্যাচ ২-২ সমতায় ফেরানোর পরই কাবরাল ছুটে যান গ্যালারির দিকে। প্রায় দুই মিনিট ধরে তিনি গ্যালারিতে চোখ বুলিয়ে প্রেমিকা জেইলি দা ক্রুজকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এরপর উভয় মিলে করেছেন রোমান্টিক উদযাপন। কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারের এমন আচরণ মুহূর্তেই আলোচনার জন্ম দেয়।
কাবরালের এমন উদযাপনে রেফারি, নিরাপত্তাকর্মী, এমনকি প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রাও বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন। সময় গড়িয়ে যেতে থাকলেও তিনি উদযাপন থামাননি। শেষ পর্যন্ত গ্যালারিতে পৌঁছে প্রেমিকার সঙ্গে আবেগঘন আলিঙ্গনে মেতে ওঠেন এই ডিফেন্ডার।
এই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই কাবরালের এই আচরণকে বলছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমান্টিক মুহূর্তগুলোর একটি। পরে তাকে ‘দ্য লাস্ট রোমান্টিক’ নামেও অভিহিত করা হয়। তবে আবেগঘন উদযাপন ছাপিয়েও নেটিজেনদের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে তার প্রেমিকার পরিচয়।

কিন্তু কে এই জেইলি দা ক্রুজ? তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। পাশাপাশি তিনি যোগাযোগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রিধারী। কাবরালের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ম্যাচের পর জেইলি নিজের ইনস্টাগ্রামে কাবরালের গোলের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘আমি কখনো এত গর্ব অনুভব করিনি।’
এই ঘটনার পর দুজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। জেইলির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার দাঁড়ায় প্রায় ১৪ হাজার ৮০০-তে, আর কাবরালের অনুসারী পৌঁছে যায় ২ লাখ ৬২ হাজারে।
ম্যাচ শেষে কাবরাল জানান, গোলের মুহূর্তে তিনি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি তখন কী করছি, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। এমন একটি টুর্নামেন্টে এমন গোল করব ভাবিনি। আমরা আরও ভালো কিছুর যোগ্য ছিলাম, তবে চার বছর পর আমরা আবার ফিরব।’
উল্লেখ্য, কাবরাল কেপ ভার্দেতে জন্মগ্রহণ করেননি। তিনি নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া একজন ফুটবলার, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি কেপ ভার্দের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আইএইচ

